নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: NEET-UG প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে গোটা দেশ যখন উত্তাল, পশ্চিমবঙ্গে শুক্রবার সেই আন্দোলন নিতে চলেছে নতুন মোড়। বামপন্থী সংগঠনগুলির আন্দোলনকে মোকাবিলা করতে সরাসরি মাঠে নামছে সঙ্ঘ পরিবার। ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ব্যানারে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর ইস্তফার দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে কলকাতায় মিছিল হবে। এদিনই রাজ্য জুড়ে পথে নামছে সিপিএম (CPM)-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)-ও। উত্তরের রায়গঞ্জ থেকে দক্ষিণের ঝাড়গ্রাম, একই দিনে দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।
শুক্রবার সঙ্ঘ পরিবারের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে দুপুর থেকেই। উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় (Raiganj University) চত্বরে বেলা ১২টায় প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের যোগদানের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে ঝাড়গ্রামের পাঁচমাথার মোড়ে বিকেল সাড়ে চারটায় জমায়েতের ডাক রয়েছে। সেখান থেকে মিছিল শুরু হয়ে শেষ হবে পথসভার মাধ্যমে। এছাড়াও ব্যাঙ্কুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম বর্ধানেও মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সঙ্ঘ সূত্রে খবর, কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিলের পরিকল্পনাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
সঙ্ঘ পরিবারের অভিযোগ, NEET-UG প্রশ্নফাঁসের আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে বামপন্থী ও দেশবিরোধী শক্তি গোটা দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই বামেদের সেই ষড়যন্ত্র রুখতে তাঁরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শিক্ষক সংঘ (ABRSM)-এর রাজ্য নেতা বাপি প্রামাণিক জানান, “প্রশ্ন ফাঁস হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত পুনঃপরীক্ষা করিয়ে সুন্দর ভাবে ফল প্রকাশ করেছে। তারপরেও হিংসাত্মক আন্দোলন মোটেই সমীচীন নয়। বামেরা এই আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে, আমরা সেই বার্তা নিয়েই পথে নামছি।” ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (BSM)-এর নেতা অরিন্দম ভট্টাচার্যের কথায়, “ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করলেও তাতে দেশবিরোধী শক্তি ঢুকে পড়েছে। তাঁরা আন্দোলনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে, আমরা সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেব না।”
অন্যদিকে, বামপন্থী শিবিরেও প্রস্তুতি জোরদার। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর ইস্তফার দাবিতে শুক্রবার কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাতে সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) অনশন প্রত্যাহার করলেও, CJP তাঁদের দাবিতে অনড় রয়েছে। এদিনই এসএফআই-সহ একাধিক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনও কলকাতা ও জেলাগুলিতে মিছিল, ধর্মঘট ও ক্লাস বয়কটের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফলে বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের শিক্ষা মহলে এই পরিস্থিতিতে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ থেকে শুরু করে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির দ্বন্দ্ব এখন সরাসরি রাজপথে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনের রেশ ছড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই সঙ্ঘ পরিবার এদিন তাঁদের একাধিক সংগঠনকে একত্রিত করে ‘শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ’-এর ব্যানারে পাল্টা কর্মসূচির আয়োজন করছে। তাঁদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনা উদ্বেগজনক হলেও ইতিমধ্যে তা সমাধান হয়েছে, তাই এখন এই হিংসাত্মক আন্দোলন অর্থহীন এবং বামেরা এটাকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যেতে চাইছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসনও। একদিনে একাধিক সংগঠনের মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। উত্তরে রায়গঞ্জ, দক্ষিণে ঝাড়গ্রাম, ব্যাঙ্কুড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, জলপাইগুড়ি ও পশ্চিম বর্ধানে মিছিলের সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েকদিন কলকাতায় বড় মিছিলের কথাও শোনা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। সবমিলিয়ে NEET প্রশ্নফাঁসের এই আন্দোলন এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
Leave a Comment