রাজ্যের গৃহস্থ গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট মিটার (Smart Meter) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে না। বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সাধারণ মানুষের উপর জোর করে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি এই ইস্যুতে বামপন্থী দলগুলিকে নিশানা করে কটাক্ষও করেন তিনি।
বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) নির্দেশে ভারত সরকার গৃহস্থ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক করছে না। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।” তাঁর দাবি, এই ঘোষণার পর স্মার্ট মিটার ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে।
গত কয়েক মাস ধরে স্মার্ট মিটার বসানোর বিরোধিতা করে বামপন্থী দল, এসইউসিআই (SUCI) এবং বিভিন্ন গণসংগঠন রাজ্যের একাধিক জায়গায় আন্দোলন করেছে। কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিও হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এবার মিছিল বন্ধ। মিছিল করার সুযোগ দেব না। এই সরকার সম্পূর্ণভাবে মানুষের স্বার্থে কাজ করে। মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ‘যাদবপুর পার্টি’ বলে কটাক্ষ করে বামপন্থীদেরও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “যাদবপুর পার্টি একটু সাবধান থাকুন। আমি সবকিছুর উপর নজর রাখছি। বেশি বাড়তে দেব না। এটা দুর্বল সরকার নয়, শক্তিশালী সরকার।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুধু স্মার্ট মিটার নয়, কৃষকদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী কুসুম (PM-KUSUM) প্রকল্পের আওতায় সেচের কাজে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য অতিরিক্ত ২ টাকা ভর্তুকি দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে কৃষকদের বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং সৌরশক্তির ব্যবহারও বাড়বে বলে তাঁর দাবি।
এছাড়া বিদ্যুৎ পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে ডিভিসি (DVC)-পাঞ্চেৎকে কেন্দ্র করে ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ সঞ্চয় (Power Storage) প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (Bakreswar Thermal Power Station) নতুন ইউনিট তৈরির কাজও এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ (Vibrant Village Programme) প্রকল্পের আওতায় সীমান্ত সংলগ্ন ৯টি জেলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণের কাজে রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তর অংশ নিচ্ছে। এই প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
স্মার্ট মিটার নিয়ে সরকারের এই অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে বিরোধীরা এই ঘোষণার পর কী অবস্থান নেয়, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নজর থাকবে।
Leave a Comment