নিট পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা ক্রমেই দাবানলের আকার নিয়েছিল। বিতর্ক আর বিক্ষোভ চলছিল টানা। আর তা ক্রমেই বড় আকার ধারণ করেছিল। তার মধ্যেই আজ শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন। লাগাতার ছাত্রদের আন্দোলন আর বিরোধী রাজনৈতিক চাপ সামলাতে না পেরে, শেষমেশ প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শুধু পদত্যাগ করেই থামেননি, চিঠিতে নিজের অবস্থানও বেশ জোর দিয়ে লিখেছেন।
পদত্যাগের পরে দেশের সকল যুবকদের উদ্দেশ্যে ২ পাতার চিঠিতে জানিয়েছেন, আন্দোলনকে হাতিয়ার করে রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে সুযোগ নিতে না পারে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না যায়, সেই কারণেই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যন্তর মন্তরের টানা বিক্ষোভ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন অত্যন্ত ব্যথিত। এটি আমার ব্যক্তিগত প্রতিপত্তির বিষয় নয়। ভারতমাতার যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। যন্তর মন্তরে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন অটুট থাকে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ালেখা ও ভবিষ্যতের দিকে মন দিতে পারে— এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’
তিনি আরও জানান, ৩ মে ২০২৬-এর নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরপরই সরকার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় আয়োজন করা হয়। এমনকি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সিবিটি বা কম্পিউটার নির্ভর করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
পদত্যাগপত্রের দ্বিতীয় পাতায় ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের ক্ষোভও গোপন করেননি। মনে করিয়ে দেন, বিগত ১০ দিনে যা কিছু ঘটেছে, তাতে তিনি ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। তাঁর কথায়, ঘটনার দায়ভার প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন, কাউকে সুযোগ দেননি ছাত্রদের ভবিষ্যৎ বিনষ্ট করতে। তবু কেউ কেউ, যাঁরা বেশ দায়িত্বশীল পদে আছেন, পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, যন্তর-মন্তরে ছাত্রদের টানা অবস্থান আর দেশজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ যখন চূড়ায়, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতেই পদত্যাগ করেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দেশের যুবসমাজকে বিভ্রান্তির ফাঁদে পড়তে দেওয়া হবে না, আর সেই কারণেই পদত্যাগ করেছেন তিনি। দেশবিরোধী শক্তিকে যাতে ভোঁতা করে দেওয়া যায় সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
Leave a Comment