কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আমি অনেক যুবককে একত্র হতে দেখেছি / জলসায়, খেলার মাঠে, সভায়, মিছিলে, মনুমেন্টের নীচে / কিন্তু কখনো জীবনের ঐকতানকে, এতো গভীর প্রেমের মতো অনুভব করিনি।’ গত কয়েকদিনে গোটা দেশের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল এই কবিতার দৃশ্য নেমে এসেছে চারপাশে। নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশের প্রায় সব প্রান্তে ছাত্র-যুবরা এক হয়ে গিয়েছে। মিছিল, স্লোগান, প্রতিবাদে সবার কণ্ঠ মিলে গিয়েছিলল এক জায়গায়তেই। ছাত্রদের এই গর্জন দেখিয়ে দিয়েছে, ছাত্রদের আওয়াজ কখনওই থেমে যায় না, বরং সময় এলে আরও জোরে মাথা তোলে।
শেষ পর্যন্ত, ছাত্র আন্দোলনের চাপেই মাথা নত করতেই হল কেন্দ্রীয় সরকারকে। আজ ককরোচ জনতা পার্টির দাবিমত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন। একবিংশ শতাব্দীর ভারত দেখলো, ছাত্ররা চাইলে আজও সরকারকে মাথা নোয়াতে পারে। প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলনের পর, কিছুটা হলেও জিতে গেল ছাত্রসমাজ। নিজের অসুস্থ শরীরে, দিল্লির যন্তর মন্তরে দাঁড়িয়ে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পরে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে স্লোগান দিলেন, ‘লং লিভ স্টুডেন্টস পাওয়ার!’ সেই মুহূর্ত মনে রাখবে অনেকে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান দাবি। বিজেপি সরকারের আমলে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা বিরল। তবু ঘটলো সেটাই। আজ শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রীসভায় গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যন্তর মন্তর থেকে দীপকে বলেছিলেন,‘অনেকেই বলেছিলেন, এই সরকারে নাকি পদত্যাগ হয় না। ওরা নিজেদের বাদশা ভেবে ফেলেছিল। কিন্তু আমরা দেখিয়ে দিয়েছি।’
কটাক্ষ করে দীপকে আরও বলেন, ‘মাথায় রাখবেন, ককরোচ একবার ঢুকলে আর বেরোয় না।’ ভিড় তখন হাততালিতে ফেটে পড়েছে। কেউ চিৎকার করছে, কেউ আনন্দ করছে। তার মাঝে আঙুল তুলে দীপকে বলেন, ‘ঝুকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানেওলা চাহিয়ে।’ তবে এখনই ছাত্ররা দমছে না। প্রথম দাবি মানা হলেও অভিজিৎ জানিয়ে দিয়েছেন বাকি দুই দাবিও মানতে হবে। দ্বিতীয় দাবি, নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে দিতে হবে। তৃতীয়ত, আন্দোলনকারীদের নামে করা মামলা তুলে নিতে হবে। এই দাবিগুলো ছাড়া লড়াই থামছে না।
শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পর এক্স হ্যান্ডলে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনার আমার মন ভারাক্রান্ত। দেশের যুবশক্তি আসল শক্তি। দেশের যুবশক্তি যাতে কোন বিভ্রান্তিতে আটকে না পড়ে, সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প।’ আজ সিজেপির সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের আগেই ইস্তফা দিলেন তিনি। আর এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল ভারতের ছাত্ররা এক হলে, এখনও সবকিছু বদলে ফেলতে পারে।
Leave a Comment