মেলাঘর, ১৫ জুন: মাদকবিরোধী অভিযানে ফের সাফল্য পেল মেলাঘর থানার পুলিশ। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ডিউটি শেষে ফেরার পথে সন্দেহজনক অবস্থায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টমটম গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় গাড়ির চালককে আটক করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মেলাঘর থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে মেলাঘর থানার এসআই অসিত ভট্টাচার্য এবং এএসআই অরুণ দেববর্মার নজরে আসে রাস্তার পাশে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টমটম গাড়ি। গাড়িটির নম্বর TR-07-4338। গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ আধিকারিকরা তাৎক্ষণিকভাবে গাড়িটিতে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তল্লাশির সময় গাড়ির ভেতর থেকে সাতটি পৃথক প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। পরে প্যাকেটগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে শুকনো গাঁজা মজুত করা ছিল। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণ সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো না হলেও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
ঘটনাস্থল থেকেই টমটম গাড়ির চালককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে উদ্ধার হওয়া গাঁজা এবং সংশ্লিষ্ট গাড়িসহ মেলাঘর থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া গাঁজা অন্য কোথাও পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেলাঘর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়ন্ত দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উদ্ধার হওয়া গাঁজার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, মাদক পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে এবং আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে সম্প্রতি একাধিক সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক পাচার রোধে পুলিশ ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি নজরদারি বাড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মেলাঘর থানার এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় মহলের মতে, মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বর্তমানে উদ্ধার হওয়া গাঁজার ওজন নির্ধারণ, এর উৎস অনুসন্ধান এবং পাচার চক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করার কাজ চলছে। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Leave a Comment