প্রসঙ্গত, ট্যাংরার লাওৎজে মন্দির (Laotze Temple) শুধু একটি উপাসনালয় নয়, চিনা সম্প্রদায়ের কাছে এটি বহু বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক এই লাও ৎজে মন্দির (Laotze Temple) । প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। সেই ঐতিহ্যকেই ধুলিস্যাৎ করতে উদ্যোগী হয়েছে একদল অসাধু ব্যক্তি বলে অভিযোগ। আগামী দিনে কাদের দায়িত্বে থাকবে চিনাদের ঐতিহ্যশালী এই মন্দির, তা সামনে রেখে আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন মন্দির পরিচালনার পরিচালনার দাবিদাররা।
মামলাকারীদের দাবি, তাঁরা এবং মামলায় অন্তর্ভুক্ত সপ্তম প্রোফর্মা বিবাদী সকলেই লি সাই অ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারী। তাঁদের বক্তব্য, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁরাই মন্দিরের দৈনন্দিন প্রশাসন, পূজা-পার্বণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ফলে এই পরিচালনা কোনও সাময়িক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি প্রতিষ্ঠিত প্রথা বলেই তাঁদের দাবি।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে শ্রী ঈশ্বর প্রহ্লাদেশ্বর জিউ শিব ঠাকুর বা প্রহ্লাদ ফ্যামিলি ট্রাস্টের সঙ্গে একটি নিবন্ধিত লিজ চুক্তি হয়। এরপর ১৯৮৯ সালে মন্দির পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্ট ডিড এবং ২০১৫ সালে একটি ডিড অব এগ্রিমেন্ট কার্যকর হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য, এই নথিগুলির ধারাবাহিকতাই মন্দির পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অবস্থানকে আইনি ভিত্তি দিয়েছে।
আদালতে (Laotze Temple) সরকারি নথির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, কলকাতা পুরসভার নথিতে লাওৎজে মন্দিরের (Laotze Temple) নাম রয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিত সম্পত্তি করও দেওয়া হয়েছে। মন্দিরের (Laotze Temple) বিদ্যুৎ সংযোগও একই নামে রয়েছে বলে দাবি তাঁদের। দীর্ঘদিনের দখল ও পরিচালনার প্রমাণ হিসেবে এই নথিগুলির গুরুত্ব রয়েছে বলেই আদালতে সওয়াল করা হয়েছে।
বিরোধ তীব্র হয় ২০২৪ সালে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর। মামলাকারীদের অভিযোগ, এরপর থেকেই মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ বাড়তে থাকে। তাঁদের আরও অভিযোগ, ২০২৬ সালের ১৪ মে কয়েকজন ব্যক্তি প্রহ্লাদ ফ্যামিলি ট্রাস্টের নাম ব্যবহার করে মন্দিরের দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এরপর প্রগতি ময়দান থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ মামলাকারীদের।
পুলিশি পদক্ষেপের দাবিতে তাঁরা হাই কোর্টের অবসরকালীন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি পার্থ সারথি সেন তাঁদের আবেদন খারিজ করেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা হয়েছে।
প্রথম শুনানিতেই ডিভিশন বেঞ্চ (Calcutta High Court) প্রগতি ময়দান থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা জানতে তদন্তকারী আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতি আদালতে রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে।
আইনজীবীদের একাংশের মতে, মামলাটি শুধু একটি মন্দিরের (Laotze Temple) দখল বা পরিচালনার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ট্যাংরার চিনা সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আবেগ। নিবন্ধিত লিজ, ট্রাস্ট ডিড, বাস্তবিক দখল, দীর্ঘদিনের পরিচালনা এবং সরকারি নথির মধ্যে আদালত কীভাবে আইনি ভারসাম্য নির্ধারণ করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রেও এই মামলার রায়ের গুরুত্ব থাকতে পারে।
Leave a Comment