---Advertisement---

নারী সংরক্ষণে রাহুল-রিজিজু তরজা, ২০২৩-এর আইন কেন এখনও কার্যকর নয় প্রশ্ন কংগ্রেসের

By Suman Debnath

August 8, 2026 8:35 PM

নারী সংরক্ষণে রাহুল-রিজিজু তরজা, ২০২৩-এর আইন কেন এখনও কার্যকর নয় প্রশ্ন কংগ্রেসের

---Advertisement---


নারীর ক্ষমতায়ন এবং মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত ফের প্রকাশ্যে। সমাজমাধ্যমে এই ইস্যুতে মুখোমুখি হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রাহুলের একটি ভিডিওবার্তার জবাব দিতে গিয়ে কংগ্রেসকে ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিল নিঃশর্তে সমর্থনের আহ্বান জানান রিজিজু। পাল্টা রাহুলের প্রশ্ন, ‘আপনার চেয়ে ভাল আর কে জানবেন যে, নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৩-এ কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে ? তিন বছর পরেও কেন তা কার্যকর করা হয়নি ? আর কেন এখন সেটিকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে ?’

বিতর্কের সূত্রপাত রাহুলের একটি ভিডিওবার্তা ঘিরে। সেখানে তিনি বলেন, দেশের নারীদের নিজেদের কথা বলার এবং নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তাঁর কথায়, ভারতের নারীদের শক্তি ও ক্ষমতা আটকে রাখা হয়েছে। কোনও দেশ তখনই সফল হতে পারে, যখন সেই দেশের নারীরা নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পান। নারীর ক্ষমতায়নকে শুধু ব্যবসা বা রাজনীতিতে সাফল্যের মাপকাঠিতে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ঘর থেকে রাস্তায় — সর্বত্র নারীরা কতটা স্বাধীন ও নিরাপদ বোধ করছেন, সেটাই আসল বলে জানান বিরোধী দলনেতা।

আরও পড়ুন:  সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে তদন্তে এবার ইডি, সকাল থেকে ১১ জায়গায় তল্লাশি

রাহুলের এই বক্তব্যকে ‘ইতিবাচক বার্তা’ বলে কটাক্ষ করেন রিজিজু। তিনি বলেন, নারীদের বিষয়ে রাহুলের মানসিকতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এরপরই কংগ্রেসের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, তারা কি কোনও শর্ত ছাড়াই মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করবে ? রিজিজুর সেই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা জবাব দেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হওয়া আইন কার্যকর করতে নতুন করে কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। বরং কেন্দ্রের উচিত কোনও শর্ত ছাড়াই সেটি কার্যকর করা।

২০২৩ সালে পাশ হওয়া ‘নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এ লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল। তবে আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে জনগণনা এবং পরবর্তী সীমানা পুনর্নির্ধারণের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখনই সংরক্ষণ চালু হচ্ছে না। কেন্দ্র এবার ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই মহিলা সংরক্ষণ চালুর কথা ভাবছে বলে জল্পনা রয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গেই ডিলিমিটেশনকে জুড়ে দেওয়ায় আপত্তি বিরোধীদের। বিরোধীদের বক্তব্য, বর্তমান আসনসংখ্যার ভিত্তিতেই অবিলম্বে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালু করা হোক। কেন্দ্রের যুক্তি, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার কথা রয়েছে। তার ৩৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হতে পারে। কিন্তু ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ডিলিমিটেশন হলে দক্ষিণের তুলনায় বেশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসন বাড়তে পারে—এই আশঙ্কাই বিরোধীদের মূল আপত্তি।

আরও পড়ুন:  ভুটানে ৩৩২ কোটি টাকার ১২টি প্রকল্পে ভারতের অনুমোদন, সাক্ষর ৪০০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি

এর মধ্যেই সংসদের বাদল অধিবেশন প্রায় শেষের পথে। ২০ জুলাই থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে অধিবেশন কার্যত অচল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত ৫ আগস্ট রিজিজু প্রায় ৫০ মিনিট রাহুলের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরের দিন ফোনেও কথা হয় দু’জনের। কিন্তু রফাসূত্র মেলেনি।

সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণকে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রশ্নেই এখন মূল সংঘাত। এক দিকে কেন্দ্র দ্রুত সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে চাইছে, অন্য দিকে বিরোধীরা ২০২৩-এর আইনই কোনও শর্ত ছাড়া কার্যকর করার দাবি তুলছে। অধিবেশন শেষ হওয়ার মুখে রাহুল-রিজিজুর প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ সেই সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলল।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment