---Advertisement---

নিজ্জর হত্যা মামলায় লরেন্স বিষ্ণোইকে চাইতে পারে আমেরিকা, প্রত্যর্পণ ঘিরে নতুন জল্পনা

By Suman Debnath

July 9, 2026 10:33 PM

---Advertisement---





খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলায় বড় পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, জেলবন্দি গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের জন্য শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাতে পারে ওয়াশিংটন। শুধু বিষ্ণোই নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গোল্ডি ব্রার, রবীন্দর ধান্দা এবং জগ্গু ভগবানপুরিয়ার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে তা ভারত-আমেরিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধী প্রত্যর্পণ মামলা হতে পারে।

মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ, ২০২৩ সালের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যা করা হয়। এই ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিষ্ণোই গ্যাংয়ের। তদন্তকারীদের দাবি, ভারতের জেলে বন্দি থাকা অবস্থাতেই চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে লরেন্স বিষ্ণোই গোটা অপারেশন পরিচালনা করত। উত্তর আমেরিকায় সক্রিয় গ্যাং সদস্যদের নির্দেশও দিত। এর পাশাপাশি তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:  শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা মোদির, আজ রাজ্যে একাধিক কর্মসূচিতে অমিত শাহ

নিজ্জর হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। ঘটনার মাসতিনেক পরে কানাডার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে ভারত। এমন বিস্ফোরক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে দিল্লি। এরপর ২০২৪-এর মে মাসে নিজ্জর খুনের অভিযোগে ৪ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে গ্রেপ্তার করে কানাডা পুলিশ। যদিও অল্প সময় পরেই জামিন পান নিজ্জর খুনে অভিযুক্ত ৪ ভারতীয় করণ ব্রার, আমনদীপ সিং, কমলপ্রীত সিং এবং করণপ্রীত সিং। পরে কানাডার কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, এই খুনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই।

এদিকে, এই মামলায় লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রারকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে অভিযান চালিয়ে অন্ততপক্ষে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে তিনটি অপরাধচক্রের মোট ৩৭ জনের নাম উঠে এসেছে। ভারতও এই আন্তর্জাতিক অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ কে পট্টনায়ক বলেছেন, ‘বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছিল ভারত। আমেরিকা ও কানাডার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।’

আরও পড়ুন:  কেনাল ক্লাবে যোগ দিল হিমালয়ান কুকুর

বর্তমানে বিষ্ণোই ভারতে একাধিক খুন, তোলাবাজি, ও সংগঠিত অপরাধের মামলায় জেলবন্দি। অন্যদিকে, গোল্ডি ব্রারও এখনও পলাতক। এই মামলায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না থাকলেও প্রত্যর্পণ ইস্যু ভারত-আমেরিকা ও ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন তাৎপর্য তৈরি করেছে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment