ফের বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছেন হাওড়া ডিভিশনের নিত্যযাত্রীরা। পরিকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য পূর্ব রেলের (Eastern Railway) তরফে আগামী ১১ এবং ১৩ জুলাই টানা পাওয়ার ব্লকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ব্লকের জেরে বাতিল থাকছে একাধিক লোকাল ট্রেন, নিয়ন্ত্রিতও থাকবে দূরপাল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ এক্সপ্রেস। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে নিয়মিত রেলপথে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষ, সবার কাছেই তাই এই খবর জরুরি।
ঠিক কবে, কেন এই ব্লক
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া ডিভিশনের বৈঁচি এবং মগরা স্টেশনের মধ্যে বৈদ্যুতিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্যই এই ট্র্যাফিক ও পাওয়ার ব্লক (traffic and power block) রাখা হচ্ছে। দুই দিন অর্থাৎ ১১ ও ১৩ জুলাই রাত ২টো ৪০ মিনিট থেকে ভোর ৪টে ৪০ মিনিট পর্যন্ত মোট ১২০ মিনিট ধরে চলবে এই কাজ। রাতের এই সময়সীমার মধ্যেই লাইনের কাজ সেরে ফেলার লক্ষ্য নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ, যাতে দিনের ব্যস্ত সময়ে যাত্রী পরিষেবায় ন্যূনতম প্রভাব পড়ে।
কোন কোন ট্রেন বাতিল থাকছে
রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্ধমান স্টেশন থেকে ছাড়া ৩৭৮১২ এবং ৩৭৭৮৬ নম্বর লোকাল ট্রেন দু’টি নির্দিষ্ট দিনে চলবে না। একই সঙ্গে হাওড়া থেকে ছাড়া ৩৭৮১১ নম্বর লোকাল এবং ব্যান্ডেল থেকে ছাড়া ৩৭৭৮১ নম্বর লোকালও বাতিল থাকছে। এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীদের হাতে তাই বিকল্প ট্রেন বা যাতায়াতের পথ আগে থেকেই ঠিক করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন রেল আধিকারিকরা।
নিয়ন্ত্রিত থাকবে গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসও
শুধু লোকাল ট্রেন নয়, এই ব্লকের প্রভাব পড়বে দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলেও। ১১ এবং ১২ জুলাই শিয়ালদহ-জয়নগর-গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসকে (Sealdah Jaynagar Gangasagar Express) কুড়ি মিনিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছে রেল। ব্লক শুরুর আগে ওই লাইনে শেষ ট্রেনটি হবে ১৩১৫৪ নম্বর, আর ব্লক মিটে যাওয়ার পরে প্রথম ট্রেনটি হবে ১৩১৮৬ নম্বর গঙ্গাসাগর এক্সপ্রেসই।
নিত্যযাত্রীদের কী করণীয়
হাওড়া মেন শাখা এবং ব্যান্ডেল-বর্ধমান করিডরে যাঁরা নিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য এই দুই দিন কিছুটা বাড়তি সময় হাতে রেখে বেরোনোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। ট্রেনের সময়সূচিতে যে কোনও মুহূর্তে বদল আসতে পারে, তাই যাত্রা শুরুর আগে ভারতীয় রেলের সরকারি ওয়েবসাইট বা এনটিইএস (National Train Enquiry System, NTES) অ্যাপ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সাম্প্রতিকতম স্থিতি যাচাই করে নেওয়াই শ্রেয়।
উল্লেখ্য, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজে হাওড়া, শিয়ালদহ ও আদ্রা ডিভিশনে সম্প্রতি একাধিকবার এই ধরনের ব্লক নিতে দেখা গিয়েছে পূর্ব রেলকে। রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও ঝঞ্ঝাটহীন ট্রেন পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নিতে হচ্ছে যাত্রীদের।
Leave a Comment