ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে ভারতের টি-২০ দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। বরং, পুরো সফর শেষ হওয়ার পরই দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে বিশদ পর্যালোচনায় বসবে বোর্ড।
ভারত ইতিমধ্যেই আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ০-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছে। এরপর ইংল্যান্ড সফরেও পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজে টানা তিনটি ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের দল। ফলে নতুন অধিনায়কের নেতৃত্ব এবং প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিসিসিআই সচিব দেবজিত সইকিয়া জানিয়েছেন, ১৯ জুলাই ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পরই পর্যালোচনা বৈঠক হবে।
সইকিয়া বলেন, “ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর আমরা অবশ্যই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। কোথায় সমস্যা হয়েছে, কীভাবে সেই সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করব। তবে কোনও তড়িঘড়ি বা আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।” বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে শুধু ক্রিকেটারদের নয়, কোচিং স্টাফের কাজও খতিয়ে দেখা হবে। ব্যাটিং, বোলিং, দল নির্বাচন, ম্যাচ পরিকল্পনা এবং বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চতুর্থ টি-২০ ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং ভরাডুবির মাঝেও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস দলকে ১৫৮/৭ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। কিন্তু জবাবে হ্যারি ব্রুক ও ফিল সল্টের দুরন্ত জুটিতে মাত্র ১৩.৫ ওভারে এই টার্গেট তাড়া করে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। এটিই ভারতের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের প্রথম টি-২০ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়। বোর্ডের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট এবং বোর্ডের মধ্যে আলোচনা করেই ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। কোনও ব্যক্তিকে দোষারোপ করার পরিবর্তে দলের সামগ্রিক উন্নতির দিকেই জোর দিতে চায় বিসিসিআই।
প্রাক্তন ভারতীয় উইকেটরক্ষক দীপ দাশগুপ্ত, যিনি বর্তমানে ইংল্যান্ডে ধারাভাষ্যকার হিসেবে রয়েছেন, তাঁর মতে টি-২০ বিশ্বকাপের এখনও দু’বছর বাকি থাকায় প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের হাতে আরও বড় পরিসরে ক্রিকেটারদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে।
দীপ বলেন, “হ্যাঁ, এটা অবশ্যই হতাশাজনক এবং নিরাশার। কিন্তু এর পাশাপাশি বড় ছবিটাও দেখতে হবে। তাই নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দিয়ে দেখার মধ্যে কোনও ক্ষতি নেই। এই তরুণ ক্রিকেটাররা এখনও ইংল্যান্ডের মতো পরিস্থিতিতে খেলার সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত নয়। এখানে পিচের চরিত্র একেবারেই আলাদা। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ডে টি-২০ খেলার ধরন ভারতের চেয়ে আলাদা। আইপিএলে প্রথম ছ’ওভারে বড় রান তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু ইংল্যান্ডে পাওয়ারপ্লের মূল লক্ষ্য থাকে উইকেট বাঁচিয়ে রাখা এবং ইনিংসকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা।”
প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের আমলে ভারতীয় দল একাধিক অবাঞ্ছিত নজিরের সাক্ষী হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ, একই প্রতিপক্ষের কাছে একদিনের সিরিজ হার এবং ইতিহাসে প্রথমবার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে পরাজয়। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে সম্ভাব্য ০-৪ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলে সেটি দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই পারফরম্যান্স পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর এবং জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকরের। অন্যদিকে, টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে রওনা দেওয়ার কথা। তিনি বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, এর আগেও ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি, অস্ট্রেলিয়া সফরে ব্যর্থতা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর বিসিসিআই একই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক করেছিল। কিন্তু তার ফল কী হয়েছে, জানা যায়নি। এ বারেও তেমন কোনো ফল হবে কি না, কেউ জানে না।
Leave a Comment