নয়াদিল্লি: দিল্লির (Delhi) রাজপথে সোমবারের ছাত্র-বিক্ষোভের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত রাজধানী। মঙ্গলবার পাঞ্জাবের (Punjab) কৃষকদের ‘মহাপঞ্চায়েত’ আটকাতে শম্ভু বর্ডার (Shambhu Border) সিমেন্টের স্ল্যাব বসিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’র তরফে জানানো হয়েছে, ভারত-আমেরিকা (India-USA) প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তি কৃষকদের স্বার্থের পরিপন্থী— এই দাবিতেই দিল্লির রাজঘাটে (Rajghat) জমায়েতের ডাক দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারের এই কড়া অবস্থানের মধ্যে গতকালই নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস নিয়ে দু’মাস পর নীরবতা ভেঙে ‘জঘন্য অপরাধ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। প্রশ্ন উঠছে— ছাত্র পেটানোর পর এ বার কি কৃষক পেটানোর পথেই হাঁটছে সরকার?
মঙ্গলবার সকাল থেকেই শম্ভু বর্ডারে ব্যাপক পুলিশি মোতায়েন করা হয়। সিমেন্টের বড় বড় স্ল্যাব বসিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে পাঞ্জাব থেকে কোনও কৃষক দিল্লির দিকে প্রবেশ করতে না পারেন। কৃষক নেতাদের অভিযোগ, ছাত্রদের মতো শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানাতেই চান তাঁরা। কিন্তু প্রশাসন আগেভাগেই সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে তাঁদের গলা টিপে ধরেছে।
প্রসঙ্গত, সোমবারই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের ঘটনা ঘটে। সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন ও ছাত্র বিক্ষোভের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে নীরবতা ভাঙেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, “নিট প্রশ্নফাঁস একটি জঘন্য অপরাধ। এতে পাপ হয়েছে।” তবে ছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা নিয়ে তিনি কিছু বলেননি।
এমন আবহে কৃষকদের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কৃষক নেতাদের দাবি, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি হলে ভারতীয় কৃষকদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। মহাপঞ্চায়েত করে এই দাবি জানানোই তাঁদের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু শম্ভু বর্ডার বন্ধ করে সরকার যে ইঙ্গিত দিল, তাতে বোঝাই যাচ্ছে— কৃষকদের দিল্লিমুখী হওয়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্র পেটানোর পরে এ বার কি কৃষক পেটানোর পালা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।
Leave a Comment