---Advertisement---

১২ হাজার পুলিশ, ড্রোনে নজরদারি, পুরীর রথযাত্রা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

By Suman Debnath

July 10, 2026 10:45 AM

১২ হাজার পুলিশ, ড্রোনে নজরদারি, পুরীর রথযাত্রা ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

---Advertisement---





হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। সামনেই রথযাত্রা। সেই উপলক্ষ্যে পুরীতেও এখন সাজসাজ রব। আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে পুরীর রথযাত্রা। লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে ওড়িশা সরকার। স্থল, জল ও আকাশ এই তিন দিকেই থাকবে কড়া নজরদারি। মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার পুলিশকর্মী। এর পাশাপাশি দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নৌবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী, এনএসজি, বিএসএফ এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স।

মঙ্গলবার ওড়িশা পুলিশের ডিজিপি ওয়াই বি খুরানিয়ার নেতৃত্বে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে রথযাত্রার নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে বিশেষ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পরকীয়া প্রমাণে কল রেকর্ড আর হোটেলের বিল যথেষ্ট, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

পুলিশ সূত্রের খবর, আকাশপথে নজরদারির জন্য অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেই সঙ্গে কোনও সন্দেহজনক ড্রোন উড়লে তা নিষ্ক্রিয় করার জন্য অ্যান্টি-ড্রোন রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সমূদ্র উপকূলেও থাকবে কড়া নজরদারি। ভারতীয় নৌবাহিনী, ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং ওড়িশা পুলিশের মেরিটাইম ইউনিট যৌথভাবে টহল দেবে। টহলদারি জাহাজে মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি, যাতে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সিআরপিএফ, বিএসএফ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সিএপিএফ, এনএসজি, বিশেষ কৌশলগত ইউনিট বা এসটিইউ, এনএসজি-প্রশিক্ষিত স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ বা এসওজি, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং প্রশিক্ষিত স্নিফার ডগ স্কোয়াডকেও যুক্ত করা হয়েছে। রথযাত্রার নির্দিষ্ট পথ, মন্দির চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অন্তর্ঘাত রোধ করতে তল্লাশি চালানো হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তির গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে নিরাপত্তা বাহিনী।

আরও পড়ুন:  ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে দিল্লির স্পষ্ট বার্তা: এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত!

ভক্তদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পদদলিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যারিকেড, পুলিশ মোতায়েন, যান চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। রথযাত্রাকে ঘিরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন ডিজিপি। চলন্ত ট্রেন, রেলস্টেশন ও জনবহুল এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা রুখতে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের ছবি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ও রেলস্টেশনে টাঙানো হবে। সেই তথ্য আরপিএফ-এর সঙ্গেও ভাগ করে নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি পুরীর হোটেল, লজ, ধর্মশালা, মঠ, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর লক্ষ্য ৯ দিন ধরে চলা এই বিশ্ববিখ্যাত ধর্মীয় উৎসবে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুরো উৎসবটাই যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment