জুলাই শেষ হতে না হতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) নিয়ে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসে তৃতীয় কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই উপভোক্তাদের নথি ফের যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, যাচাইয়ে অযোগ্য প্রমাণিত হলে শুধু নাম বাদই নয়, ভুল তথ্য দিয়ে সুবিধা নেওয়া উপভোক্তাদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে পাওয়া ৩০০০ টাকা ফেরত নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি।
বর্তমানে রাজ্যের বহু মহিলা ইতিমধ্যেই প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারী এখনও কোনও কিস্তিই পাননি বা প্রথম কিস্তি পাওয়ার পর দ্বিতীয় কিস্তি পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আগস্ট মাসে কারা টাকা পাবেন এবং কারা বঞ্চিত হবেন, তা নিয়েই বাড়ছে কৌতূহল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে এক কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাঠানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই উপভোক্তাদের তথ্য ও নথিপত্র আরও একবার খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত যোগ্যরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পান।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে এই প্রকল্প নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তাঁর বক্তব্য, অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় এমন কিছু আবেদনকারীর নাম উঠে এসেছে, যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন না। একই সঙ্গে অনেক প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীর নাম তালিকায় নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় সরাসরি জনসংযোগ বাড়িয়ে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র প্রশাসনিক রিপোর্টের উপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে, যেসব পরিবারের মাসিক আয় নির্ধারিত সীমার অনেক বেশি, তাঁদের মধ্যেও কেউ কেউ এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে কেউ ভুয়ো বা ভুল নথিপত্র জমা দিয়ে প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাহলে তাঁর কাছ থেকে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ৩০০০ টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নির্দেশিকা বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি।
ফলে বর্তমানে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের পুনরায় নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। অযোগ্যদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলেও, ৩০০০ টাকা ফেরত নেওয়ার বিষয়টি এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়। তাই এই সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দেশিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উপভোক্তাদের সরকারি ঘোষণার দিকেই নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Leave a Comment