---Advertisement---

নেশা ও অপরাধ দমনে শৈথিল্য নয়, বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

By Suman Debnath

August 6, 2026 1:40 AM

নেশা ও অপরাধ দমনে শৈথিল্য নয়, বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

---Advertisement---


আগরতলা, ৫ আগস্ট : রাজ্যে নেশা ও অপরাধের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। তিনি বলেন, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে আরও সমন্বিত, কঠোর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে মাদক ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানোরও নির্দেশ দেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ের ২ নম্বর কনফারেন্স হলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত টাস্ক মনিটরিং সিস্টেম (টিএমএস)-এর বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন। বৈঠকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান সচিব, সচিব, অধিকর্তা ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ভার্চুয়ালি রাজ্যের আটটি জেলার জেলা শাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা অংশ নেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত রাখতে পুলিশ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলি চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ সংলগ্ন এলাকা ও সংবেদনশীল স্থানগুলিতে পুলিশি উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি জিবি হাসপাতাল এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা সময়ের দাবি।

আরও পড়ুন:  মানশ্রীর চিকিৎসায় পাশে দাঁড়াতে ত্রিপুরায় সমাজসেবী হুসেন মনসুরি!

পর্যটন শিল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে। তাই ছবিমুড়া, উনকোটি, ডুম্বর, নীরমহল-সহ রাজ্যের সব পর্যটন কেন্দ্রকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় রাখতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিয়মিত ক্ষেত্র পরিদর্শন এবং কার্যকর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।

আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১১ আগস্ট উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে রাজ্যস্তরের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এই জাতীয় কর্মসূচিতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি বিদ্যালয়গুলির সার্বিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শিক্ষার মান বৃদ্ধি নয়, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা, নোটিশ বোর্ড হালনাগাদ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পাঠদানের মানও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি জেলা শাসকদের বিদ্যালয় পরিদর্শন আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নম্র, সংবেদনশীল ও সহনশীল আচরণের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের সমস্যা দ্রুত সমাধানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:  কাকিমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বাড়িতে গিয়ে মার খেলেন সিপিআইএম শান্তিরবাজার মহকুমা সম্পাদক আশু দেবনাথ।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পরিষেবার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতাল, সমাজকল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন হোম, ছাত্রাবাস, শিশু টিকাকরণ কর্মসূচি, গণবণ্টন ব্যবস্থা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং পশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির পরিষেবা সম্পর্কেও বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।

জল জীবন মিশনের আওতায় বর্তমানে প্রায় ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে খোয়াই জেলার মতো জলসংকটপূর্ণ এলাকায় উদ্ভাবনী ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া কৈলাশহর বিমানবন্দর চালুর অগ্রগতি সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

জেলা শাসকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর সার্বিক নজরদারি রাখতে হবে এবং প্রতিটি দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। বৈঠকের শেষে তিনি রাজ্যের জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কাজের প্রশংসা করে মানুষের কল্যাণে আরও নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকের সূচনায় মুখ্যমন্ত্রীর সচিব তথা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে সচিত্র উপস্থাপনার মাধ্যমে টাস্ক মনিটরিং সিস্টেমের সার্বিক কার্যপ্রণালী তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনিই বৈঠকের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

Related Stories

‘৪৫০০ ক্রসফায়ার, ৬০০ গুম ও ৬০ লাখ ভুয়া মামলা’: বিগত ১৬ বছরের নির্মম চিত্র তুলে ধরে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক আইনমন্ত্রীর

‘৪৫০০ ক্রসফায়ার, ৬০০ গুম ও ৬০ লাখ ভুয়া মামলা’: বিগত ১৬ বছরের নির্মম চিত্র তুলে ধরে ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার ডাক আইনমন্ত্রীর

রোহিত বিতর্কে চাপে আগরকর? নির্বাচকপ্রধান পদে কি আসছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ, জোর জল্পনা ভারতীয় ক্রিকেটে

রোহিত বিতর্কে চাপে আগরকর? নির্বাচকপ্রধান পদে কি আসছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ, জোর জল্পনা ভারতীয় ক্রিকেটে

টানা বৃষ্টিতে ধসে বিপর্যস্ত পাহাড় ও উত্তরবঙ্গ: বিচ্ছিন্ন একাধিক গ্রাম, নদী প্লাবিত হওয়ার সতর্কতা

টানা বৃষ্টিতে ধসে বিপর্যস্ত পাহাড় ও উত্তরবঙ্গ: বিচ্ছিন্ন একাধিক গ্রাম, নদী প্লাবিত হওয়ার সতর্কতা

‘সিনিয়রদের সম্মান করতে হবে’, গম্ভীরকে পরোক্ষে বার্তা রাহানের? টেস্টে ভারতের অবনতি নিয়ে সরব প্রাক্তন অধিনায়ক

‘সিনিয়রদের সম্মান করতে হবে’, গম্ভীরকে পরোক্ষে বার্তা রাহানের? টেস্টে ভারতের অবনতি নিয়ে সরব প্রাক্তন অধিনায়ক

সাইবার প্রতারণা রুখতে কলকাতা পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে আরবিআই কর্তারা

সাইবার প্রতারণা রুখতে কলকাতা পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে আরবিআই কর্তারা

‘আমি মুজিব কন্যা, আমি ফিরবই, দেশের মানুষের জন্য ফিরব’—দিল্লির ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বার্তা

‘আমি মুজিব কন্যা, আমি ফিরবই, দেশের মানুষের জন্য ফিরব’—দিল্লির ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বার্তা

No comments to show.

Leave a Comment