ইউক্রেনের ওডেশা (Odesa) বন্দরের অদূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন চার ভারতীয় নাবিক। ঘটনায় মোট অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। হামলার জন্য রাশিয়া (Russia)-কে দায়ী করেছে ইউক্রেন (Ukraine), যদিও মস্কোর তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এদিকে নিরীহ নাবিকদের মৃত্যুতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ভুট্টাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘গোল্ডেন লিও’ (Golden Leo) রবিবার ওডেশা বন্দর ছেড়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরপর তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা।
হামলার পরই উদ্ধার অভিযানে নামে ইউক্রেনের সেনা ও জরুরি পরিষেবা। রাতভর তল্লাশির পর ১৭ জন জাহাজকর্মীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ইউক্রেনের প্রশাসনের দাবি, এই হামলায় ৯ জন নাবিক এবং একজন পাইলট নিহত হয়েছেন। মৃতদের মধ্যে চারজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। আরও এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গিয়েছে।
এই হামলার জন্য সরাসরি রাশিয়াকেই দায়ী করেছে কিয়েভ। তবে রুশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। ফলে হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা এবং নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।
একই সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস গোটা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। নিহত ও আহত ভারতীয়দের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ওডেশা (Odesa) অঞ্চলের গভর্নরের দাবি, চলতি মাসেই রাশিয়ার হামলায় ওই অঞ্চলে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের অন্যান্য এলাকাতেও সাম্প্রতিক রুশ হামলায় আরও অন্তত আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই নতুন হামলা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বেসামরিক নাবিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিল।
Leave a Comment