বাংলার একাধিক জায়গায় তৈরি হয়েছে অবৈধ বেটিং ও জুয়া চক্র। সেরকমই একটি অবৈধ অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চক্রে হানা দিল পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কলকাতার দিনেশ নগরের একটি ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফ্ল্যাট থেকে অনলাইন জুয়া ও ক্রিকেট বেটিং চালানো হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫ মিনিট নাগাদ দিনেশ নগরের ৫৯ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পূর্ব যাদবপুর থানার একটি দল। সেখানে চারজনকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাব ব্যবহার করে জুয়ার কারবার চালাতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের পরিচয় জানা যায়—সৌরভ কুমার সিন্ধুরিয়া (২৭), বিকাশ কুমার ভার্মা (৩২), ধীরাজ কুমার ঠাকুর (২৪) এবং ওমপ্রকাশ সাউ (২৪)। চারজনেরই বাড়ি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ এলাকায়।
পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, পবন সাউ, রোহিত-সহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার চক্র চলছিল। ওই কারবার চালানোর জন্য কোনও বৈধ নথি বা লাইসেন্স দেখাতে পারেনি তারা। সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা, বৈদ্যুতিন নথি জাল করা এবং প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাব, একটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের চারটি ডেবিট কার্ড এবং নগদ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর রাত ২টা ৪৫ মিনিটে চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
এর পর পূর্ব যাদবপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং পশ্চিমবঙ্গ জুয়া ও পুরস্কার প্রতিযোগিতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। চার ধৃতের পাশাপাশি পলাতক পবন সাউ, রোহিত ও অন্যদের বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বৈদ্যুতিন নথি জাল এবং প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত চলছে। এই অনলাইন জুয়া চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর মাধ্যমে কত টাকার লেনদেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই রাজু চৌধুরী।
Leave a Comment