---Advertisement---

চাকরির টোপে মায়ানমারে বন্দি শতাধিক ভারতীয়, সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করার অভিযোগ

By Suman Debnath

July 26, 2026 4:40 PM

চাকরির টোপে মায়ানমারে বন্দি শতাধিক ভারতীয়, সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করার অভিযোগ

---Advertisement---


বিদেশে চাকরির টোপে ভারতীয় যুবকরা। বিদেশে মোটা বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ, সিঙ্গাপুরের একটি আইটি সংস্থায় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানার প্রায় ১০০ জন যুবককে মায়ানমারে আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের দাবি, সেখানে বন্দি করে তাঁদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছে। অনাহারে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্ধকার ঘরে আটকে রেখে তাঁদের উপর নানারকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সাইবার জালিয়াতির কাজেও তাঁদের জোর করে নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রের খবর, সিঙ্গাপুরে মাসে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা বেতনের আইটি চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় সমাজমাধ্যমে। সেই বিজ্ঞাপন দেখে কয়েকজন যুবক গত ২ এপ্রিল বিজয়ওয়াড়া থেকে রওনা হন। কিন্তু তাঁদের সিঙ্গাপুরে না নিয়ে গিয়ে প্রথমে কম্বোডিয়া এবং পরে মায়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছনোর পরই তাঁদের পাসপোর্ট, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য নথি কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন:  পহেলগাম হামলার চার্জশিটে হাফিজ সইদের নাম, লস্কর প্রধানের পাশে পাকিস্তান

ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্জন পাহাড়ি এলাকার একটি ঘেরা শিবিরে তাঁদেরকে আটকে রাখা হয়। এরপর বিদেশিদের টার্গেট করে অনলাইন প্রতারণার কাজ করতে বাধ্য করা হত। নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলে বা কাজ করতে অস্বীকার করলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, মারধর, অনাহারে রাখা এবং অন্ধকার ঘরে বন্দি করে রাখার মতো শাস্তি দেওয়া হত। তাঁদের অভিযোগ, একই চক্রের হাতে আটকে থাকা কয়েকজন মহিলা যৌন নির্যাতনের শিকারও হন।

এর হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন কয়েকজন। অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে ফের ধরে এনে নির্মম অত্যাচার করা হয়। মুক্তি পাওয়ার জন্য এই প্রতারক চক্র জনপ্রতি ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণও দাবি করেছে বলে পরিবারের অভিযোগ। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগীদের আত্মীয়রা বিদেশ মন্ত্রক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ নন-রেসিডেন্ট তেলুগু সোসাইটি বা এপিএনআরটি-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সম্প্রতি কনফারেন্স কলে বন্দি কয়েকজন যুবক তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে দ্রুত উদ্ধারের আবেদন জানান। এপিএনআরটি কর্তৃপক্ষ তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে। স্থানীয় পুলিশও বিষয়টি বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

আরও পড়ুন:  পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে উত্তেজনা, জর্ডনে ১০ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস, কুয়েতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মায়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সাইবার প্রতারণা চক্রের ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের হাজার হাজার যুবককে সেখানে নিয়ে গিয়ে অনলাইন আর্থিক প্রতারণা, ভুয়ো বিনিয়োগ, রোম্যান্স স্ক্যাম ও ক্রিপ্টো জালিয়াতিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের যৌথ অভিযানে বহু মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অসংখ্য বিদেশি নাগরিক এই চক্রের কবলে আটকে রয়েছেন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment