---Advertisement---

ফের আমেরিকার কাছে হাত পাতছে পাকিস্তান! এবার ১০ বিলিয়ন ডলারের বিরল আর্থিক সহায়তার জন্য

By Suman Debnath

July 22, 2026 12:10 PM

ফের আমেরিকার কাছে হাত পাতছে পাকিস্তান! এবার ১০ বিলিয়ন ডলারের বিরল আর্থিক সহায়তার জন্য

---Advertisement---


ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতার পর কূটনৈতিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা চাইল পাকিস্তান। রিজার্ভ শক্তিশালী ও আইএমএফের উপর নির্ভরতা কমানোই মূল লক্ষ্য।

ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী কূটনৈতিক তৎপরতার আবহেই ফের যুক্তরাষ্ট্রের (United States) কাছে বড় আর্থিক সহায়তার আবেদন জানাল পাকিস্তান (Pakistan)। ইসলামাবাদ ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ Bilateral Exchange Stabilisation Support Facility গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার লক্ষ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, পাকিস্তানি রুপির উপর চাপ কমানো এবং আইএমএফ (IMF)-এর ঋণের উপর নির্ভরতা হ্রাস করা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ ঔরঙ্গজেব (Muhammad Aurangzeb) মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)-এর কাছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য এই সহায়তা কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি এবং পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রকও আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুরোধের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ-সংক্রান্ত আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে দেশটির গুরুত্ব কিছুটা বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার কৌশল নিয়েছে ইসলামাবাদ। এর অংশ হিসেবেই এই বিরল আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কাতারের প্রাক্তন ‘ফাদার আমির’  শেখ হামাদের প্রয়াণে ভারতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক

প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তানি রুপির উপর চাপ কমবে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের উপর নির্ভরতাও কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে একই সঙ্গে আইএমএফের কর্মসূচির আওতায় রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক সংস্কারের মতো কঠোর শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতিও বজায় রাখতে হবে।

বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের Extended Fund Facility (EFF)-এর আওতায় রয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে সম্ভাব্য ঋণ খেলাপি এড়াতে দেশটি ৩ বিলিয়ন ডলারের Stand-By Arrangement পেয়েছিল। পরে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আরও ১.৩ বিলিয়ন ডলারের পৃথক ঋণও অনুমোদিত হয়। তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনও অনেকটাই চিন, সৌদি আরব এবং অন্যান্য মিত্র দেশের আমানত ও ঋণ রোলওভারের উপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত Exchange Stabilisation Facility অত্যন্ত বিরল একটি আর্থিক ব্যবস্থা। সাধারণত এটি কোনও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে, মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং প্রয়োজনে ডলার, কারেন্সি সোয়াপ বা সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবস্থা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের স্থায়ী ডলার সোয়াপ ব্যবস্থার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

আরও পড়ুন:  মেসিদের ভিসা বাতিল, প্রিমিয়ার লিগের দরজা বন্ধ করতে চলেছে ব্রিটিশ সরকার

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা মিললে পাকিস্তানের জন্য তা শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ কমতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইএমএফের কিস্তি বা জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সি, রিয়েল এস্টেট এবং খনি শিল্প-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment