কামদুনি ফাইলস আবার খোলার কথা আগেই শোনা গিয়েছিল রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখে। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে হাজির হলেন কামদুনি কাণ্ডের দুই প্রতিবাদী টুম্পা কয়াল এবং মৌসুমি কয়াল। বুধবার তাঁরা এসে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে। ২০১৩ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাতের স্মৃতি এখনও তাঁদের স্মৃতিতে সতেজ হয়ে রয়েছে। কামদুনি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার ১৩ বছর পরেও বিচার না মেলায় আবার সরব হলো নির্যাতিতার পরিবার। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ এসে সেই কথাই জানালেন কামদুনিকাণ্ডের দুই প্রতিবাদী মুখ মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়াল। যেভাবে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত হয়েছে তাতে তাঁরা খুশি নন। সে কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে।
এদিকে সিআইডি তদন্তে গাফিলতি ছিল বলে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন তাঁরা। এমনকী মামলার অগ্রগতি নিয়েও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চললেও এখনও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে পরিবারের মধ্যে। ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর থেকে্ই আন্দোলনে নেমে পড়েন মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়াল।
অন্যদিকে এই ঘটনার পর কেটে গিয়েছে বহু বছর। ওই মামলা আদালতের গণ্ডিতে রয়েছে এখনও। নানা সময়ে কামদুনির ঘটনা উঠে এসেছে রাজ্য-রাজনীতিতে। তবে নির্যাতিতার পরিবার এখনও অপেক্ষা করে আছে চূড়ান্ত বিচারের জন্য। রাজ্যে পালাবদলের পরই তাই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন টুম্পা-মৌসুমী। কদিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের মুখে শোনা গিয়েছে কামদুনির ফাইল খোলার কথাও। সেটা বাস্তবায়িত হয়নি এখনও। তবে সেটা যাতে খোলা হয় তার জন্য শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন তাঁরা। এই মামলার ক্ষেত্রে নাম জড়িয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের। যদিও তিনি এখন ঋতব্রত শিবিরে গিয়ে ভিড়েছেন। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় বলে অভিযোগ।
তাছাড়া কামদুনির পরিবারের অভিযোগ, তদন্তে একাধিক গাফিলতি আছে। মামলার এখন পরিস্থিতি এবং তদন্তের নানা বিষয় নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাতে ‘জনতার দরবারে’ হাজির হয়েছেন মৌসুমী-টুম্পারা। নির্যাতিতার পরিবারের একজন এই নিয়ে বলেন, ‘আগের সরকার ১৬টা পিপি চেঞ্জ করেছে ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে। সঠিক বিচার পাইনি আমরা। অভিযুক্তরা কলকাতা হাইকোর্টে আপিল করেছিল। আর মামলা ঠিক করে সাজানো ছিল না বলেই ফাঁসি এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডের আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস করেছে। বিচার পাওয়া গেল না।’ এই ঘটনার পর তদন্তের দায়িত্ব যায় সিআইডির হাতে। পরে আদালতে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া। যদিও এখনও পর্যন্ত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
Leave a Comment