১৮ দিনে পড়ল সোনম ওয়াংচুক অনশন। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। তবুও অনশনমঞ্চ ছাড়ার কোনও ইচ্ছা নেই তাঁর। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা করে দিল্লি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। আদালতের কাছে তাঁর আবেদন, সোনমকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হোক। প্রয়োজন হলে জোর করে পুষ্টিকর খাওয়ার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক। সেই আবেদনের ভিত্তিতে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলো দিল্লি হাইকোর্টে। তা মঞ্জুর করেছে আদালত।
যন্তরমন্তরে চলা সোনমের অনশন প্রসঙ্গে আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনি আদলতে জানান, সোনমকে অবিলম্বে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার। তিনি জানিয়েছেন, তরল জাতীয় খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামি জোর করে দেওয়া হোক। যাতে তাঁর জীবন সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও আর্জি জানানো হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ভিডিশন বেঞ্চ এই বিষয়ে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। বুধবারই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানে পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। ২০ জুন থেকে যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরু করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
আন্দোলনের শুরু থেকেই তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্র কোন সন্তোষজনক জবাব না দিলে অনশনে বসবেন বলেও জানান তিনি। সরকারে তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না মেলায় ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন লাদাখের এই সমাজকর্মী।
টানা ১৭ দিন ধরে অনশনে থাকার পর বুধবার তাঁর ১৮ দিনে পড়েছে। দীর্ঘ অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেত-সাংসদও তাঁর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।সোমবার যন্তরমন্তরে গিয়ে সোনমের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ।
তাঁরা সোনম ও অন্যান্য অনশনকারীদের অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানাননি সোনম। এদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র দাবি, দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনমের ওজন কমেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনেরর দাবিগুলি নিয়ে কেন্দ্রে নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
Leave a Comment