হামিম-অর্পিতা-আদিত্যর মেক্সিকো যোগ? ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদান করত তারা? এমন ইঙ্গিতই পাচ্ছেন এসটিএফ-এর তদন্তকারীরা। ধৃতদের মোবাইল ফোন বাজেযাপ্ত করে একাধিক তথ্য এখন তদন্তকারীদের হাতে।
হামিমের আইফোন ১৬ প্রো-তে একটি ‘বিশেষ অ্যাপ’ এর হদিশ মিলেছে। যদিও অর্পিতার ফোনে এখনও পর্যন্ত একই ধরনের কোনো অ্যাপ্লিকেশন মেলেনি। অভিযোগ তারা দুজনেই পাকিস্তানের আইএসআই-এর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছেন এবং ‘রানা’ নামে এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্রও মিলেছে। বাজেয়াপ্ত ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া এনক্রিপটেড মেসেজ থেকে দুজনের আইএসআই-যোগা স্পষ্ট। রানা, আবির, উজাইর এবং জাট নামে চার হ্যান্ডলারকে ইতিমধ্যেই শনাক্ত করেছে এসটিএফ।
মেক্সিকোতে কী এমন রয়েছে যা সন্ত্রাসে সাহায্য করতে পারে? তাহলে কি মেক্সিকোর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের? হানি ট্র্যাপে জড়িয়ে ব্ল্যাকমেলিং তা থেকে টাকা আদায় – কোন পথে হাঁটছিল হামিম-অর্পিতা-আদিত্য?
আদালতের ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে বলা হয়েছে হামিম অর্পিতাকে বলেছিল পাকিস্তানের ‘শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং’ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দিতে আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করতে রাজি হয়েছে। নিরাপদ যোগাযোগের জন্য ডিসকর্ড অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছিল ভাট্টি গ্যাং।
আবিদ জাটকে শনাক্ত করার পর সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জাট একজন পাকিস্তানি অপারেটিভ, যে জইশ-ই-মহম্মদ এবং ইসলামাবাদের আইএসআই—উভয়ের সঙ্গেই যুক্ত। আবিদ নিজের পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করা সেলফোন নেটওয়ার্ক (+৪৪, +৫২ ও +১১ প্রিফিক্সযুক্ত) ব্যবহার করত।
জাট এবং রানা হুনাইন উভয়েই হামিম মণ্ডলের সাথে যোগাযোগ রাখত। গত বছরের ১৭ জুন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ভাট্টির একটি মডিউল ফাঁস করার সময় রানার নাম উঠে আসে। রানার নির্দেশ মেনে হামিম ওই সেলের জন্য স্থানীয় গুপ্তচরবৃত্তির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কাজে নেমেছিল। হামিম (সি৯-উঝাইর)-কে আইএসআই-এর একজন এজেন্ট হিসেবে শনাক্ত করেছে।
Leave a Comment