দেশ জুড়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁরা হতাশ। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও তাঁদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে গোটা দেশ উত্তাল। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সম্প্রতি একটি মন্তব্য করেন। তিনি আন্দোলনকারীদের, মূলত তাঁদের যঁরা কটূ কথা বলেছেন, তাঁদের ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার কথা বলেন। এবার এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর মতে, ছাত্রদের ক্ষমা করার এই বাতুলতা প্রধানমন্ত্রী কী করে দেখাচ্ছেন! বরং এই পরিস্থিতির জন্য সরকারেরই ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
ক্ষমা নিয়ে তরজা
মঙ্গলবার দিল্লিতে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠান ছিল। প্রবীণ নেতা ভাইকোর লেখা একটি বই প্রকাশিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। সেখানে তিনি মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি জানান, ছাত্ররা আজ তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন। তাঁদের হাতে কোনও কাজ নেই। তাঁরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পরীক্ষাব্যবস্থার একটি সুস্থ পরিকাঠামো চাইছেন। রাহুলের দাবি, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়। মোদীজি কমবয়সি ছাত্রদের ক্ষমা করার কথা বলে বিরাট মহান হতে চাইছেন! আসলে উনি দোষী। তাই ছাত্রদের চাপে পড়ে ওঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোনও দরকার নেই।
বিতর্কের রেশ
রাহুল এদিন আরএসএস (RSS)-এর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস ভারতের মতো বহুমাত্রিক দেশের উপর নিজেদের পছন্দের একপাক্ষিক ইতিহাস চাপিয়ে দিতে চাইছে। ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানকার প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে। রাহুল উদাহরণ হিসেবে তামিলনাড়ুর কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কেউ দেশের ইতিহাস পদদলিত করতে পারবে না। কারণ, ভারতবাসী তা কখনোই মেনে নেবে না।
বিক্ষোভ থামছে না
এই মুহূর্তে দেশের নানা প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভ (Student Protest) চলছে। বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ছাত্রসমাজও এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার দাবি তুলছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাহুলের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুতে ক্রমশ কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে।
Leave a Comment