---Advertisement---

৮ম বেতন কমিশন এলেই কি প্রথম দিনেই দ্বিগুণ হবে বেতন? সামনে এল আসল অঙ্ক

By Suman Debnath

August 1, 2026 3:50 PM

৮ম বেতন কমিশন এলেই কি প্রথম দিনেই দ্বিগুণ হবে বেতন? সামনে এল আসল অঙ্ক

---Advertisement---


বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরেই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন(7TH PAY COMMISSION) তৈরি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেও ফারাক থাকছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে। কারণ নরেন্দ্র মোদী সরকার গড়ে দিয়েছিলেন অষ্টম বেতন কমিশন(8TH PAY COMMISSION)। ফলে এগিয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা।

এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠছে, নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হলেই একলাফে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বেতন। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে,কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ঠিকই। তবে যতটা বাড়বে মনে হচ্ছে এই ধারণার পেছনে রয়েছে কিছুটা ভুল ধারণা। বাস্তবে ৭ বছরে বেতন দ্বিগুণ হওয়া এবং ৮ম বেতন কমিশন চালুর প্রথম দিনে বেতন বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পার্থক্য।

এরই মধ্যে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন ৮ম বেতন কমিশনের কাছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ  -কে মূল বেতনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার  প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদে বেতন দ্বিগুণ হওয়া সম্ভব।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট: প্রতি বছর চাকরিতে ৩% বা তার বেশি হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মেলে।

ছয় মাসের ডিএ বৃদ্ধি: প্রতি ৬ মাস অন্তর মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে ডিএ বাড়ানো হয়।

আরও পড়ুন:  সরকারের হাত ধরে বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নতুন দিশা: দেবজিৎ

ডিএ মার্জার : নিয়ম মেনে ডিএ নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে তা বেসিক পে-র সাথে যুক্ত হলে পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট ও ভাতার পরিমাণ একলাফে অনেকটা বেড়ে যায়।

এই ধারাবাহিক বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রতি ৬ মাসের ডিএ বৃদ্ধি এবং ডিএ মার্জারের চক্রবৃদ্ধি  প্রভাবের কারণে টানা ৭ বছরের মেয়াদে একজন কর্মচারীর গ্রস স্যালারি বা মোট বেতন প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছে যায়। তবে এটি একটি স্বাভাবিক আর্থিক বৃদ্ধির গণিত, কমিশনের এককালীন কোনো উপহার নয়।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.০ হলেই কি প্রথম দিনে বেতন দ্বিগুণ হবে?

অনেকেই মনে করেন, ৮ম বেতন কমিশনে যদি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.০  অনুমোদন করা হয়, তবে প্রথম দিন থেকেই হাতে পাওয়া বেতন বা গ্রস স্যালারি দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটে না।

এর পেছনে ৩টি প্রধান টেকনিক্যাল কারণ রয়েছে:

১) বেসিক পে বনাম মোট বেতন : ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২ হলে কারও বেসিক পে বা মূল বেতন ১০০% বা দ্বিগুণ হবে ঠিকই, কিন্তু মোট বেতন  নয়।

২) ডিএ শূন্য (0%) থেকে শুরু: নতুন পে কমিশন কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই পুরনো জমাকৃত বিশাল ডিএ-কে শূন্য করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, বেসিক পে বাড়লেও তখনকার মতো ডিএ বাবদ অতিরিক্ত টাকা আর যুক্ত হয় না।

আরও পড়ুন:  নিউটাউনে লিভ-ইন পার্টনারের ভয়ঙ্কর পরিণতি, বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার তরুণীর দেহ

3. ভাতা সংস্কার (এইচআরএ ও অন্যান্য): নতুন ও বর্ধিত বেসিক পে-র ওপর ভিত্তি করে বাড়ি ভাড়া ভাতা (এইচআরএ) এবং অন্যান্য ভাতার হার নতুন করে পুনর্নির্ধারিত হয়।

পৃথক এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২ করা হলে বেসিক পে দ্বিগুণ হলেও প্রথম দিনে কর্মচারীদের মোট বেতন একলাফে ১০০% বাড়ে না, বরং তা বাড়ে প্রায় ৩১% থেকে ৩৫%-এর কাছাকাছি থাকতে পারে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ৭ বছর ধরে ইনক্রিমেন্ট এবং ডিএ বৃদ্ধির ফলে মোট বেতন দ্বিগুণ হওয়া এক জিনিস, আর পে কমিশন চালুর প্রথম দিনে বেতন বৃদ্ধি পাওয়া অন্য জিনিস।

৮ম বেতন কমিশন কার্যকর হলে প্রথম দিনেই বেতন দ্বিগুণ হবে না; তবে বেসিক পে বৃদ্ধির কারণে নতুন কাঠামোয় মোট বেতন উল্লেখযোগ্য হারে (প্রায় ৩১%+) বৃদ্ধি পাবে এবং পরবর্তী ৭ বছরে তা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে দ্বিগুণ রূপ নেবে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার ও ৮ম বেতন কমিশন শেষ পর্যন্ত কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং কোন ভাতা কাঠামো অনুমোদন করে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment