উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) বহুল আলোচিত বরুণ বিশ্বাস (Barun Biswas) হত্যা মামলায় ফের নতুন মোড়। নিহত শিক্ষক ও সমাজকর্মীর হত্যাকাণ্ডে বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেন বরুণ বিশ্বাসের সহযোদ্ধা এবং শিক্ষক নন্দদুলাল দাস। অভিযোগপত্রে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriya Mallick)-সহ আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি এবং অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার বনগাঁ (Bongaon) পুলিশ সুপার কলিতা দাশগুপ্তের (Kalita Dasgupta) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন নন্দদুলাল দাস। তাঁর দাবি, ২০১২ সালে বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত তদন্ত হয়নি এবং এর নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তিনি আবেদন করেছেন, তাঁর অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হোক।
নন্দদুলাল দাস অতীতে বরুণ বিশ্বাসের সঙ্গে সুটিয়া (Sutia) খুন ও গণধর্ষণ কাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, বরুণ বিশ্বাস হত্যার প্রতিবাদ করায় তাঁকেও একাধিকবার হেনস্থা ও ভয় দেখানো হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে নন্দদুলাল দাসের দাবি, বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডে মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পাশাপাশি তপন সিংহ, প্রদীপ ঘোষ, বিষ্ণু ঘোষ, সুখেন বালা, ধ্যানেশ গুহ, মিহির বিশ্বাস এবং দেবেন ঘোষ-সহ আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে তদন্তের গতিপথ ভিন্ন দিকে ঘোরানোর চেষ্টা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৫ জুলাই স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে গোবরডাঙা (Gobardanga) স্টেশনের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বরুণ বিশ্বাস। তিনি সুটিয়া গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ এবং আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। তাঁর মৃত্যু সেই সময় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
এদিকে বরুণ বিশ্বাসের পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ১৪ বছর কেটে গেলেও মামলার প্রকৃত বিচার এখনও হয়নি। সম্প্রতি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে দেখা করে দ্রুত বিচার এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
এরপরই রাজ্য সরকার এই মামলায় বিশেষ সরকারি আইনজীবী হিসেবে দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় (Debranjan Bandyopadhyay)-কে নিয়োগ করে। শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতে মামলার ৩৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। পরিবারের আশা, নতুন আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বহুদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর মিলবে এবং প্রকৃত দোষীদের আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।
Leave a Comment