নিট (NEET) পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছ’টায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে জরুরি বৈঠকে বসলেন কংগ্রেসের দুই কক্ষের সাংসদেরা। ঠিক তার পরদিনই, শুক্রবার সারা দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party)। ফলে সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীনই রাজনৈতিক পারদ চড়েছে চরমে।
কী নিয়ে বৈঠক
সূত্রের খবর, বৈঠকের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি প্রকাশ্যে না এলেও, এই মুহূর্তে সংসদে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে যে বারবার সংঘাত তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েই মূলত কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে বরাবরই সরব কংগ্রেস, আর এই ইস্যুতেই সরকারের কাছে আরও দায়বদ্ধতা চেয়েছেন তাঁরা। প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল।
আলোচনার প্রস্তাবেও কাটছে না জট
অন্য দিকে কেন্দ্রের তরফে বারবার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তাঁর কথায়, বুধবার বিকেল থেকে এখনও পর্যন্ত সিজেপি প্রতিনিধিদের কাছে চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যেখানে তাঁদের সুবিধামতো সময় ও জায়গায় আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ নিজেরাই যে কোনও সুবিধাজনক জায়গায় গিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত বলেও জানানো হয়েছে। তবে প্রোটোকল নিয়ে সরকার একেবারেই চিন্তিত নয় বলে দাবি করা হলেও, আন্দোলনকারীদের অনড় মনোভাবে এখনও রফাসূত্র মেলেনি।
অনশনে সোনম ওয়াংচুক
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। গত ২৮ জুন থেকে যন্তরমন্তরে অনশনে বসেছেন তিনি, প্রায় এক মাস পার হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ক্রমেই অবনতি হচ্ছে তাঁর শারীরিক অবস্থার, ওজন কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। তাঁর এই লড়াইয়ে সংহতি জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা, অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ওয়াংচুক নিজে অনড়, সংসদ অভিযানের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার বার্তাই দিয়েছেন সহযোদ্ধাদের।
শুক্রবারের বিক্ষোভ
আন্দোলনকারীদের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারংবার অনিয়মের প্রতিবাদে শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি জোরদার করার ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন রাজ্যেও এই আন্দোলনের ঢেউ পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এই আন্দোলন সরকারের উপরে বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
সব মিলিয়ে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা ক্রমশ অত্যন্ত জটিল রূপ নিচ্ছে। সরকার আলোচনার বার্তা দিলেও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছাড়তে নারাজ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত, বিক্ষোভের গতিপ্রকৃতি দেখে এটাই মনে হচ্ছে যে, এই আন্দোলন চট করে থামবার নয়।
Leave a Comment