রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের বাজেট নিয়ে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে একাধিক নতুন প্রকল্প ও আর্থিক সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, স্কুলস্তর থেকে প্রতিভা গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা যেমন রয়েছে, তেমনই আবার প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সম্মান, আন্তর্জাতিক স্তরে পদকজয়ীদের জন্য আর্থিক পুরস্কার এবং বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা ও ক্লাবকে সহযোগিতা করার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
ক্রীড়ামন্ত্রী আরও জানান, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্রীড়া পরিকাঠামো প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও কলেজকে ১৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য। আসলে খেলোয়াড়দের স্কুলস্তর থেকে বাছাই করার পরে বিশেষ প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে তাদের তৈরি করা। ভবিষ্যতে সেই সব খেলোয়াড়রা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলার মুখকে উজ্জ্বল করবে বলে বিশ্বাস। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী-কৃতী প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা চালু করা হচ্ছে। যে সমস্ত ক্রীড়াবিদ অতীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে পদক এনেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে সাম্মানিক দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে এক হাজার প্রাক্তন ক্রীড়াবিদকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
বর্তমান প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। আবার ‘অটল খেল সম্মান’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জিতলে এতদিন ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হচ্ছে। রুপোজয়ীদের ১৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা এবং ব্রোঞ্জ পদকজয়ীদের ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৫০ লক্ষ টাকা সাম্মানিক দেওয়া হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী আরও জানান ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ক্রীড়া সহায়তা’ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে সমস্ত ক্লাব ও ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ক্রীড়ামন্ত্রী অতীতের একটি বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, মেসির নাম করে মেসো নিয়ে এসে যে অন্যায় ক্রীড়াপ্রেমীদের সঙ্গে করা হয়েছিল, তা ঠিক হয়নি। স্বাভাবিকভাবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে পূর্বতন সরকার ও প্রাক্তন ক্রীড়ামনত্রীকে খোঁচা দিয়েছেন। ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কোনও স্টেডিয়ামে আগামী দিনে কোনও বেআইনি কার্যকলার বরদাস্ত করা হবে না। ক্রীড়াঙ্গণে স্বচ্ছতাই হল প্রথম কথা। স্টেডিয়ামগুলিতে সঠিকভাবে ব্যবহার করাটাই হবে লক্ষ্য। তার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
Leave a Comment