তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই দলে যোগ দিলেও তাঁরা একটা চাপের মধ্যে রয়েছেন। এই বুঝি সাংসদ ভেঙে আবার ফিরে গেল তৃণমূলে। এমন একটা আশঙ্কা সবসময় কাজ করছে তাঁদের মধ্যে। কারণ ৬ জন সাংসদ নাকি তলায় তলায় যোগাযোগ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে। এই আবহে একদিন আগেই দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে বসে আছেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সারিতে বসতে দেখা গিয়েছে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকেও। আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ওই ২০ জন সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নয়াদিল্লি গিয়ে। বুধবার এই এনসিপিআই সাংসদদের নিয়েই প্রতিক্রিয়া দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
এনসিপিআই সাংসদরা বৈঠকের পর দাবি করেছেন, বিজেপি তাঁদের আস্বস্ত করেছে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সংসদে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে। কিন্তু তার আগে যদি এই ২০ জন সাংসদের মধ্যে ভাঙন ধরে তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজ হয়ে যাবে। এটাই সংবিধান প্রদত্ত নিয়ম। এই গোটা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা আমার সিলেবাসের মধ্যে পড়ে না। এটা আমাদের সংসদীয় বোর্ডের বিষয়। কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটারের মতো প্রায়। আর ২০২৯ সালও এখন অনেক দেরি। ডিলিমিটেশন হবে, আসন বাড়বে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। এসব অনেক পরের কথা। তার মধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে যাবে। দেখতে থাকুন।’
এনসিপিআই এখনও এনডিএ-তে স্বীকৃতি পায়নি। বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ক্রমাগত বৈঠক করে চলেছেন। আবার সংসদে যখন তাঁরা বক্তব্য রাখছেন তখন লোকসভা টিভিতে তাঁদের তৃণমূলের সাংসদ দেখাচ্ছে। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে এনসিপিআই জানিয়েছে, তারা সমর্থন করবে এনডিএ-কে। এনডিএ জোটের বৈঠকে হাজির থাকছেন কাকলি-সুদীপরাও। গতকাল, সংসদ চত্বরে নাটকীয় মোড় দেখা যায়। তিন এনসিপিআই সাংসদ এনডিএ জোটে যাননি। মুর্শিদাবাদের ওই তিন সাংসদের বক্তব্য, তাঁরা এনসিপিআই-তে আছেন। কিন্তু বিজেপি বা এনডিএ-তে নয়। এই নিয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘আমি যতদূর জানি, ২০জন এনসিপিআই সাংসদ এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। এখন যাবেন কী যাবেন না, তাঁদের নেতৃত্বের দেখার বিষয়। এটা আমার সিলেবাসের মধ্যে পড়ে না।’
তাছাড়া এনসিপিআই-তে থাকা ৬ সাংসদ যে ফিরতে চলেছেন সেটা প্রকাশ্যে আনেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংসদ সৌগত রায়ের সঙ্গে তাঁদের কথা বলতেও দেখা গিয়েছিল। এমনকী এই ৬ জন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছেন দিল্লিতেই বলে সূত্রের খবর। যদিও এসব নিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য, ‘দেশে এখন তুঘলকি শাসন নেই, মোঘলের শাসনও নেই। তাই এসব দ্বিচারিতা থেকে দূরে থাকতে হবে। আমার যেমন বেণী তেমনি রবে, চুল ভিজাবো না। এই নাটকও কিন্তু মানুষও হজব করবে না।’
Leave a Comment