জেন-জি প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ক্যাম্পাসে নতুন কর্মসূচি শুরু করছে এবিভিপি। সাংস্কৃতিক আলোচনা, ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোগ এবং মোহন ভাগবতের তরুণদের সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক আগ্রহ।
নিট আন্দোলনের পর দেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এই আবহে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (Akhil Bharatiya Vidyarthi Parishad – ABVP)। কলেজ ক্যাম্পাসে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জেন-জি পড়ুয়াদের আরও বেশি করে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠন। একই সময়ে আরএসএস (Rashtriya Swayamsevak Sangh – RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)-এর তরুণদের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনাকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র আন্দোলন এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত একটি সংগঠনের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। তবে সংগঠনটিকে ঘিরে বিদেশি অনুদান বা ষড়যন্ত্রের যে বিভিন্ন দাবি প্রকাশ্যে এসেছে, সেগুলির কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই আবহে পশ্চিমবঙ্গে এবিভিপি কলেজ ক্যাম্পাসভিত্তিক একাধিক নতুন কর্মসূচি শুরু করতে চলেছে। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে গান, সাহিত্য, মনীষীদের জীবন ও সমাজচর্চা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এই উদ্যোগগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্ক্রিন টাইম টু গ্রিন টাইম’ এবং ‘স্ক্রিন টাইম টু মিউজিক টাইম’।
সংগঠনের লক্ষ্য, মোবাইল ও ডিজিটাল মাধ্যমের বাইরে এসে ছাত্রছাত্রীদের ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি কলেজে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘ক্যাম্পাস চলো’ অভিযানও শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম আগের মতো প্রশ্ন না করে কোনও বিষয় মেনে নেয় না। তাঁদের কৌতূহলের উত্তর ধৈর্যের সঙ্গে দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ছাত্রসমাজের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংগঠন এখন নতুন ধরনের কর্মসূচির উপর জোর দিচ্ছে। এবিভিপির এই উদ্যোগও সেই বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-ও একাধিকবার তাঁর বক্তৃতায় জেন-জি প্রজন্মের ভূমিকা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
আগামী দিনে এই কর্মসূচিগুলি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে এবং ক্যাম্পাস রাজনীতিতে তার কী প্রভাব পড়ে, সেটাই এখন দেখার।
Leave a Comment