কলকাতা: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত আরও প্রকাশ্যে এল। মেয়ো রোডের (Mayo Road) সভামঞ্চ থেকে কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে নাম না করেই তীব্র কটাক্ষ করলেন ঋতব্রত তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল কোনও পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়, এই দল গড়ে উঠেছে কর্মীদের রক্ত-ঘাম আর দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘রক্ত বড়, না ভক্ত বড়?’
সভামঞ্চ থেকে ফিরহাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঠিক করবেন, কবে তিনি রক্তের সম্পর্ক ছেড়ে ভক্তদের পাশে দাঁড়াবেন। এই দল মমতার রক্তে নয়, কর্মীদের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং ভালোবাসায় তৈরি।” তাঁর এই মন্তব্যে সভামঞ্চে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জোর সাড়া পড়ে।
এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “যারা লিফটে উঠে এসেছে, তারা রাজনীতি করবে না। মাঠে-ঘাটে যারা লড়াই করেছে, মানুষের পাশে থেকেছে, আন্দোলন করেছে, রাজনীতি করার অধিকার তাদেরই।” যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের নিশানা ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ফিরহাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে দলের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থান। তিনি বলেন, তৃণমূলের শক্তি কোনও ব্যক্তি বা পরিবারের পরিচয়ে নয়, বরং হাজার হাজার সাধারণ কর্মীর নিষ্ঠা, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগে। সেই কারণেই ‘ভক্তদের’ গুরুত্ব ‘রক্তের সম্পর্ক’-এর চেয়ে বেশি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এবারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ এমনিতেই ব্যতিক্রমী। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথমবার কলকাতায় একই দিনে দুই তৃণমূল শিবিরের পৃথক কর্মসূচি হয়েছে। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের (Birla Planetarium) সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন শিবিরের কর্মসূচি। সেই আবহেই ফিরহাদের এই মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘রক্ত বনাম ভক্ত’ প্রসঙ্গ তুলে ফিরহাদ হাকিম শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি, বরং দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক চরিত্র নিয়েও একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে ‘লিফটে উঠে রাজনীতি’ মন্তব্যটি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চে এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর তৃণমূলের অন্দরের মতভেদ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, এই মন্তব্যের জবাবে দলের অন্য শিবিরের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া আসে কি না।
Leave a Comment