মোদির ভিডিও সরানো, শিশু সুরক্ষা এবং আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে মেটা। প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা ও দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি সেফ হারবার ইস্যুও আলোচনায়।
ভারতে মেটার (Meta) কার্যক্রম ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যেই সংস্থার তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র একটি ভিডিও সরিয়ে ফেলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (Child Sexual Abuse Material) কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মেটার প্রতিনিধিদল কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকের পর সংস্থার তরফে দুঃখপ্রকাশ এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ব্যাখ্যা সামনে এসেছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের (Ministry of Electronics and Information Technology) সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান (Joel Kaplan)-সহ সংস্থার প্রতিনিধিরা সচিব এস. কৃষ্ণন (S. Krishnan)-এর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপত্তিকর ও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রতিরোধে মেটার ভূমিকা নিয়ে সরকারের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, বৈঠকে মেটা শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে এবং এই বিষয়ে দুঃখপ্রকাশও করেছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও সরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি (technical error) বলে ব্যাখ্যা করেছে সংস্থা। মেটার দাবি, ভুলবশত ভিডিওটি সরানো হয়েছিল এবং পরে সেটি পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে (Nishikant Dubey) কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সংস্থার ক্ষমাপ্রার্থনা যথেষ্ট নয়, ঘটনার দায়ও মেটাকে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg)-এর ব্যক্তিগত ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানান এবং প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ ও সেফ হারবার (Safe Harbour) সুরক্ষা প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সেফ হারবার হল তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারার অধীনে একটি আইনি সুরক্ষা, যার ফলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে সাধারণভাবে সরাসরি দায়ী করা হয় না, যদি তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। এই সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, মার্ক জুকারবার্গ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এই দাবির স্বাধীন সরকারি বা মেটার আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সরকারি সূত্রে যা জানা গিয়েছে, তা হল মেটার প্রতিনিধিদল সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং সংস্থা প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে।
ফলে এই মুহূর্তে ভারতে ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram) বা হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা মেটার সেফ হারবার অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হচ্ছে—এমন কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
Leave a Comment