বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি এবং স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি প্রদান এবং সেই ক্ষেত্রে বিধানসভার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে বুধবার মামলার শুনানিতে স্পষ্টভাবে উঠে আসে, কোনও রাজনৈতিক দলের একটি চিঠি পেলেই কি বিরোধী দলনেতাকে স্বীকৃতি দেওয়া যায়? নাকি স্পিকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা-সহ অন্যান্য সাংবিধানিক বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হয়?
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী জয়দীপ কর এদিন আদালতে জানান, বিষয়টি সংবিধানের দশম তফসিলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বক্তব্য, স্পিকারের কাছে কোনও অযোগ্যতা সংক্রান্ত আবেদন জমা পড়েনি। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন থাকলে মুখ্য সচেতক নির্বাচনের অধিকারও তাঁদের রয়েছে।
সেই সময় বিচারপতি শম্পা সরকার জানতে চান, বর্তমানে দলের আইনি অবস্থান কী? ১৫ জুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২৭ জুন পর্যন্ত কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি? আদালতের আরও প্রশ্ন, দলের একটি অংশ আলাদা হয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, সেই বিষয়টি স্পিকার আদৌ বিবেচনা করেছেন কি না। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি শুধুমাত্র সংখ্যার নয় বরং স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
শুনানিতে জয়দীপ কর জানান, ৯ জুনের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে তথাকথিত চেয়ারপার্সন ও সেক্রেটারির স্বাক্ষর ছিল না। পরে ১৫ জুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২৭ জুন অভিযোগ দায়ের করা হয়। আদালত এদিন শিবসেনা মামলার নির্দেশের প্রসঙ্গও তোলে। বিচারপতি জানতে চান, বিধানসভায় নির্বাচিত বিরোধী সদস্যকে বাদ দিয়ে যদি এমন কাউকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যার পিছনে পরাজিত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবে স্পিকার সেই পরিস্থিতি কীভাবে বিবেচনা করবেন?
অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন কমিশন তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জবাব চেয়েছিল। ইতিমধ্যেই তা জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের জন্য কমিশন দু’বার সময়ও বাড়িয়েছে। যদি তারা নিজেদের প্রকৃত সংগঠন হিসেবে প্রমাণ করতে পারে, তবে কমিশন সেই বিষয়টি বিবেচনা করবে। বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে।
Leave a Comment