---Advertisement---

‘অভিষেকের জন্যই আমি জেলে গিয়েছি’, ঋত বৈঠকের আগে বিস্ফোরক অনুব্রত

By Suman Debnath

July 15, 2026 6:05 PM

‘অভিষেকের জন্যই আমি জেলে গিয়েছি’, ঋত বৈঠকের আগে বিস্ফোরক অনুব্রত

---Advertisement---


ইডি-সিবিআইয়ের মামলায় দীর্ঘ কারাবাসে থাকতে হয়েছিল বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে। আর তার জন্য দায়ী একমাত্র ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ঋতব্রত গোষ্ঠীর বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে এমনই দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণের কেষ্ট। এদিন সেই কেষ্টই সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে ঝড় বইতে শুরু করেছে। গরুপাচার মামলায় প্রায় বছর আড়াই জেল খাটতে হয়েছে অনুব্রত মণ্ডলকে। তিহাড় জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে কাটাতে হয়েছে মাসের পর মাস। আর তার জন্য দায়ী একমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন গোলপার্কে ঋত-তৃণমূলের বৈঠকে প্রথমবার যোগ দেওয়ার আগে অভিষেককে কাঠগড়ায় তুললেন কেষ্ট।

বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্যও অভিষেককে দায়ী করেছেন অনুব্রত। এই দলে আগামী দিনে কেউ থাকবে না বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের বক্তব্যে একের পর এক বোমা ফাটিয়েছেন কেষ্ট। ঋত-তৃণমূলের বীরভূমের জেলা সভাপতি হয়েছেন অনুব্রত। আৎ এদিন যা বললেন তাতে কালীঘাট তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। অনুব্রত সুর চড়িয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে চারবার ফোন করেছিলেন। আমি ওঁকে বলেছি অভিষেককে তুলে নিতে। বীরভূম থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা রেভিনিউ পেত সরকার। পরে কয়লার জন্য দিনে ৪০ লক্ষ টাকা দিতে হতো।’

আরও পড়ুন:  শনিবার ‘ঋতব্রত শিবির’-এ যোগ দিতে পারে বীরভূমের কেষ্ট মণ্ডল

অনুব্রত মণ্ডল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে শুরু থেকে ছিলেন। আগে তিনি কংগ্রেস করতেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রথমদিনের সঙ্গী ছিলেন। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীর তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এদিন সেখানের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে কেষ্টর কড়া বার্তা, ‘আগামী দিনে তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। শেষ হয়ে যাবে। ঋতব্রতও তৃণমূল, আমিও তৃণমূল। ওসব বাজে কথা বলবেন না। আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? কী জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওঁর জন্যই জেলে গিয়েছি। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছি চোখে দেখো না কানে দেখো তুমি! আর শুধরে যাও গা। অভিষেককে তুলে নাও।’

তাছাড়া এদিন মদন মিত্রও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীতে মিশেছে। তিনিও অভিষেককে দায়ী করেছেন দলের পরাজয়ের জন্য। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, ‘অভিষেকের নামে বলে দলবদল করাটা একটা বাহানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের লাগেজ, ব্যাগেজ বাঁচাতে দলবদল করছে ওরা। আমি যদি আগেও শূন্য থেকে শুরু করতে পারি। তাহলে আবার আমি নতুন করে শুরু করব। যাঁদের যাওয়ার তাঁরা যেতে পারেন।’ যদিও অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, ‘আমি আগেও জেলা সভাপতি ছিলাম। ওরা আবার আমায় সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে, তার জন্য ওদের ধন্যবাদ জানাই। কত কষ্ট করে, লড়াই করে বীরভূম থেকে সিপিএম তাড়িয়েছি। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ আর বীরভূম-বর্ধমানের মানুষের ভালবাসাই আমার আসল পুঁজি। আমি কখনও কোনও অন্যায় করিনি।’

আরও পড়ুন:  রাজ্যে চালু আরও সরকারি বাস, পথে নামবে ৪৬২টি নতুন যানবাহন

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment