---Advertisement---

নয়ডার বহুতলে আগুন, ২ জনের মৃত্যু

By Suman Debnath

July 15, 2026 6:00 PM

নয়ডার বহুতলে আগুন, ২ জনের মৃত্যু

---Advertisement---


উত্তরপ্রদেশের নডায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হল ২ জনের। বুধবার মামুরা গ্রামের ফেজ-৩ থানার অন্তর্গত একটি বহুতল আবাসনে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু হয়। ভিতরে আটকে পড়েন প্রায় ৫০টি পরিবারের প্রায় একশোরও বেশি বাসিন্দা। তবে দমকল ও উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সকলকেই নিরাপদে বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বহুতলের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পার্কিং এলাকায় একটি ইলেকট্রিক স্কুটার বা বৈদ্যুতিক বাইকে চার্জ দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময় ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশেই পার্ক করে রাখা একাধিক গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে পার্কিং এলাকা। আগুনের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ঘন কালো ধোঁয়া। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে সিঁড়ি ও করিডর ধরে উপরের তলাগুলিতেও। ফলে বহু বাসিন্দা ঘরের ভিতরে আটকে পড়েন।

আরও পড়ুন:  প্রেসক্রিপশন ছাড়া আর মিলবে না এই ওষুধগুলি

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ৭টি ইঞ্জিন, হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম, উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ। দমকলকর্মীরা সিঁড়ি, ল্যাডার ও হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকে ছাদে উঠে যান। পরে পাশের ভবনের ছাদের সঙ্গে ল্যাডার লাগিয়ে তাঁদেরও নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।

গৌতম বুদ্ধ নগরের জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার রাজীব নারায়ণ জানান, আগুনের তুলনায় ধোঁয়াই বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। পার্কিং এলাকা থেকে ধোঁয়া দ্রুত গোটা ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তখন শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ২ জনকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। আরও ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের পরে বহুতলের প্রতিটি ফ্ল্যাট তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি শেষে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ভিতরে আর কেউ আটকে নেই। আগুনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  সোনমের অনশন ১৮ দিনে, স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে আদালতে মামলা

ঘটনার পর বহুতলের মালিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফেজ-৩ থানায় প্রাসঙ্গিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি প্রস্থান পথ এবং অন্যান্য অগ্নিসুরক্ষা বিধি ঠিকমতো মানা হয়েছিল কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলেকট্রিক গাড়ি বা স্কুটারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচুর বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি হয়। তাই চার্জ দেওয়ার সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং আবাসনের পার্কিং এলাকায় যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নয়ডার এই দুর্ঘটনা সেই সতর্কবার্তাকে স্মরণ করিয়ে দিল।

 

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment