বাংলার মুকুটে নয়া পালক। প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা (PMJDY)-র আওতায় রুপে ডেবিট কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সমগ্র দেশে পশ্চিমবঙ্গ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এটি রাজ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল ব্যাঙ্ককিং পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের একটা উদাহরণ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে জনধন অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে ৩.৭৬ কোটি রুপে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
তালিকায় উত্তরপ্রদেশ রয়েছে প্রথমে। এখানে জনধন অ্যাকাউন্টধারীদের মধ্যে ৭.১৬ কোটি রুপে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে বিহার। এখানে ৪.৯৮ কোটি রুপে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ (৩.৫১ কোটি) এবং মহারাষ্ট্র (২.৭২ কোটি)-র মতো বড় রাজ্যগুলিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে। সারা দেশে এখনও পর্যন্ত জনধন যোজনার আওতায় ৪০.৬০ কোটি রুপে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
রাজ্যের এই সাফল্য বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে ব্যাঙ্ককিং পরিষেবার প্রসারকে তুলে ধরেছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৫.৭২ কোটি জনধন অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের প্রমাণ। এই অগ্রগতির অন্যতম কারণ হল বিজনেস করসপন্ডেন্ট কেন্দ্র (BC) এবং মাইক্রো-এটিএম নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাঙ্কে না গিয়েই নগদ জমা ও তোলা, ব্যালেন্স চেক এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন।
আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রামের মতো দূরবর্তী এলাকার মানুষ আগে ব্যাঙ্কে যেতে অনেক দূর ভ্রমণ করতেন। এখন স্থানীয় বিজনেস করসপন্ডেন্ট কেন্দ্রের মাইক্রো-এটিএমের মাধ্যমে তাঁদের বাড়ির কাছেই ব্যাঙ্ককিং পরিষেবা মিলছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিএলএস ই-সার্ভিসেস (BLS E-Services)-এর ১ হাজার ৬০০-এরও বেশি BC CSP কেন্দ্র এবং ৬০০-এর বেশি মাইক্রো-এটিএম রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২০ লক্ষেরও বেশি লেনদেন হয়। যার মোট মূল্য প্রায় ১ হাজার কোটি।
গ্রিন পিন (Green PIN) সুবিধা চালু হওয়ায় গ্রাহকরা এখন সহজেই ডিজিটালভাবে তাঁদের রুপে কার্ডের পিন তৈরি বা পরিবর্তন করতে পারছেন। ফলে ডাকযোগে পিন পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার গ্রাহকদের জন্য এটি বড় সুবিধা। বিএলএস ই-সার্ভিসেস (BLS E-Services)-এর চিফ অপারেটিং অফিসার লোকনাথ পাণ্ডার কথায়, ‘জনধন যোজনার আওতায় রুপে কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এটা রাজ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ধারাবাহিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাইক্রো-এটিএম এবং বিজনেস করসপন্ডেন্ট (BC) কেন্দ্রের সম্প্রসারণের ফলে শুধু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলাই নয়, মানুষ এখন সহজেই সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছেন। গ্রাম থেকেই তাঁরা নগদ অর্থ তুলতে, সরকারি সুবিধা পেতে এবং অন্যান্য ব্যাঙ্ককিং পরিষেবা গ্রহণ করতে পারছেন।’
জনধন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মানুষ পেনশন, সরকারি ভর্তুকি এবং অন্যান্য ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর অর্থ পান। রুপে কার্ড, আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট এবং গ্রামাঞ্চলের ব্যাঙ্ককিং পরিকাঠামোর সঙ্গে এই ব্যবস্থার সংযোগ দেশের ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলছে। পশ্চিমবঙ্গের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এখন শুধু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সহজ ও কার্যকর ব্যাঙ্ককিং পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার দিকেই গুরুত্ব বাড়ছে।
বিএলএস ই-সার্ভিসেস (BLS E-Services Limited) সম্পর্কে
বিএলএস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিএলএস ই-সার্ভিসেস লিমিটেড ভারতের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। ৪৫ হাজার ৮০০-এর বেশি চ্যানেল সার্ভিস পার্টনার (CSP) এবং ১.৫১ লক্ষেরও বেশি টাচপয়েন্টের মাধ্যমে সংস্থাটি বিজনেস করসপন্ডেট (BC), অ্যাসিসটেড ই-সার্ভিসেস এবং ই-গর্ভনেন্স পরিষেবা প্রদান করে। ব্যাঙ্ককিং, সরকারি পরিষেবা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণমূলক পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে বিএলএস ই-সার্ভিসেস দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Leave a Comment