সোনামুড়া, ১১ জুন: মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর বার্তা দিয়ে সোনামুড়া আদালতে এনডিপিএস (NDPS) আইনের একটি মামলায় নজিরবিহীন রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার তিন অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সোনামুড়া আদালতে মাননীয় স্পেশাল জজ সঞ্জয় ভট্টাচার্যী এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। আদালতের এই রায়কে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আইনজীবী মহল এবং প্রশাসনিক মহল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে যাত্রাপুর থানার তৎকালীন অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) সুব্রত দেবনাথ একটি গোপন সূত্রে খবর পান যে একটি গাড়িতে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বে যাত্রাপুর থানার সামনে বিশেষ নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
এসময় সোনামুড়া থেকে কাঁঠালিয়া হয়ে রাঙামুড়াগামী একটি হোন্ডাই গাড়ি, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর TR03R-0509, থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় গাড়ি থেকে প্রায় ৯ হাজার ৫০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ এবং এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও বিস্মিত করে।
ঘটনাস্থল থেকেই গাড়ির চালক মাদাই শীল (২৯), মানিক মিয়া (৩৭) এবং প্রশান্ত রায়কে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন ওসি সুব্রত দেবনাথ স্বপ্রণোদিত হয়ে যাত্রাপুর থানায় এনডিপিএস আইনের বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা রুজু করেন। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং জব্দ করা আলামত আদালতে পেশ করে। মামলার শুনানির সময় প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করে। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তিন অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে আদালত প্রত্যেক অভিযুক্তকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবী মহলের মতে, সোনামুড়া আদালতে এনডিপিএস আইনের মামলায় এত কঠোর সাজা খুবই বিরল। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে মাদক পাচারকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের কঠোর বিচার প্রয়োজন। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান এবং আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিতভাবে পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সোনামুড়া আদালতের এই রায় সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Comment