ককরোচদের বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে সঙ্ঘ পরিবারের সংগঠন

By Suman Debnath

July 28, 2026 9:25 PM

ককরোচদের বিরুদ্ধে কলকাতার রাজপথে সঙ্ঘ পরিবারের সংগঠন


নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রেক্ষিতে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে পথে নামল আরএসএসের ছাতার তলায় থাকা আধ ডজন সংগঠন। মঙ্গলবার জোড়া মিছিল নিয়ে শিয়ালদহ এবং হাওড়া থেকে ধর্মতলায় হাজির হলেন সঙ্ঘপন্থী ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীরা। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে সংক্ষিপ্ত জনসভা করে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন, ছাত্র-শিক্ষক-অধ্যাপক সংগঠনগুলির নেতৃত্ব। একই সঙ্গে তাঁরা বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকেও আক্রমণ করলেন কলকাতায় সাংবাদিক নিগ্রহ প্রসঙ্গে।

আরএসএসের সহযোগী সংগঠনগুলির মধ্যে যেগুলি শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে, তারা পশ্চিমবঙ্গে পথে নামা শুরু করেছিল গত শুক্রবার থেকেই। ছাত্র সংগঠন এবিভিপি, শিক্ষক-অধ্যাপক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষাবিদদের সংগঠন এবিআরএসএম এবং বিএসএম, সঙ্ঘের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালক সংগঠন বিদ্যা ভারতী তো বটেই, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস এবং ইতিহাস সংঙ্কলন সমিতির মতো সংগঠনগুলির সদস্যদেরও এই কর্মসূচিগুলিতে শামিল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আলাদা আলাদা করে নয়, শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ নামে অভিন্ন ব্যানারের অধীনে সকলকে একসঙ্গে পথে নামতে বলা হয়।

জেলায় জেলায় কর্মসূচি সেরেই মঞ্চের তরফ থেকে কলকাতায় কেন্দ্রীয় মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র, শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মীদের এই কর্মসূচিতে ডাকা হয়েছিল। তাই হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনের বাইরে জমায়েত করে মিছিল শুরু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে দুই স্টেশনের বাইরে জমায়েত শুরু ডাক দেওয়া হয়েছিল। ১টা থেকে মিছিল শুরু নির্ধারিত ছিল। শিয়ালদহের মিছিল ১টা ১০ নাগাদ শুরু হয়ে ধর্মতলার দিকে রওনা দেয়। হাওড়ার মিছিল কাঁটায় কাঁটায় ১টাতেই শুরু হয়ে যায়। এবিভিপি-র তরফ থেকে মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন অপাংশুশেখর শীল, শুভব্রত অধিকারী, নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্যেরা। এবিআরএসএম-এর তরফ থেকে ছিলেন বাপি প্রামাণিক, সঞ্জীব নাগেরা। বিএসএম-এর তরফ থেকে নেতৃত্বে ছিলেন শ্লোক পাণ্ডে, অরিন্দম ভট্টাচার্য, সঞ্জয় গুহ রায়, বিশ্বরূপা ঘোষ, শমীক রায়চৌধুরীরা।

আরও পড়ুন:  অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা পেলেন হেলথ কার্ড, দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বিশেষ উপহার মিলল

মঙ্গলবারের এই কর্মসূচিতে ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র ছেলেমেয়েরাই ছিলেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যায়। তবে এবিআরএসএম-ও বড় সংখ্যায় শিক্ষক-অধ্যাপকদের কলকাতায় জড়ো করেছিল। বিএসএম-এর তরফ থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক খ্যাতনামা অধ্যাপক এবং শিক্ষাবিদদের নিয়ে আসা হয়। দু’দিক থেকে মিছিল নিয়ে শহরের প্রাণকেন্দ্রে পৌঁছে শক্তি প্রদর্শনই ছিল এই প্রতিবাদ মিছিল-এর মূল উদ্দেশ্য। তাই রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে কোনও দীর্ঘ সভার আয়োজন রাখা হয়নি। রাস্তাটির তিনটি লেনের মধ্যে একটিকে সভার জন্য ফাঁকা রেখে সেখানে ট্রাকের উপরে অস্থায়ী মঞ্চ বানানো হয়েছিল। বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষনেতারা সেই মঞ্চে উঠে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করবেন বলে স্থির হয়েছিল। কিন্তু হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে আসা মিছিলের আকার দেখে নেতৃত্বের উৎসাহ বেড়ে যায়। ঘণ্টাখানেক সভা চলে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে।

আরও পড়ুন:  বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে বোতল ছোড়ার অভিযোগ, পূর্ব যাদবপুর থানায় দায়ের অভিযোগ

সঙ্ঘের ছাতার তলায় থাকা এই সংগঠনগুলির প্রত্যেকটির তরফ থেকেই সিজেপি-কে আক্রমণ করা হয়েছে ধর্মতলার সভা থেকে। ছাত্র আন্দোলনকে সামনে রেখে দেশে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দিল্লির যন্তরমন্তরে হওয়া জমায়েত হোক বা কলকাতায় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির মিছিল, ছাত্র আন্দোলনের নামে যে ভাষায় দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আক্রমণ করা হয়েছিল, তার সমালোচনায় মঙ্গলবার মুখর হয়েছে শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চ। ছাত্র আন্দোলনের নামে তৈরি হওয়া বিভিন্ন পোস্টার এবং মিমকে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বলে আক্রমণ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার কলকাতায় বাম ছাত্রসংগঠনগুলির মিছিল থেকে সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় পুলিশ ধরপাকড় চালিয়েছে। সরব হয়েছে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি-ও। সংবাদমাধ্যমের উপরে আক্রমণ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার ধর্মতলার মঞ্চ থেকে ফের সরব হন সঙ্ঘী সংগঠনগুলির নেতারা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপরে কোনও আস্থা নেই বলেই বামেরা এখন অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে এবং সংবাদমাধ্যমকেও আক্রমণ করছে বলে শিক্ষা সংস্কৃতি সুরক্ষা মঞ্চের নেতারা মন্তব্য করেন।

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment