নিজস্ব প্রতিনিধি, মেলাঘর, ২৩ জুন: রাজ্যে অবৈধ কাঠ পাচার রোধে ফের বড়সড় সাফল্য পেল মেলাঘর বনদপ্তর। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠের লগসহ একটি বোলেরো গাড়ি আটক করতে সক্ষম হয় বনকর্মীরা। তবে বনদপ্তরের উপস্থিতি টের পেয়েই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় গাড়ির চালকসহ পাচারকারীরা।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে মেলাঘর বনদপ্তরের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য গোপন তথ্য আসে যে কলমক্ষেত পচার মার ঘাট সংলগ্ন সমর সেতু এলাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ পাচার করার পরিকল্পনা চলছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বনদপ্তরের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেয়।
রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ বনকর্মীরা সমর সেতু এলাকায় ওত পেতে অবস্থান নেন। কিছু সময় পর একটি সন্দেহজনক বোলেরো গাড়ি সেখানে এসে পৌঁছায়। গাড়িটির নম্বর ছিল TR-01-Q-1525। বনকর্মীরা গাড়িটিকে থামানোর চেষ্টা করলে চালক ও তার সহযোগীরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়।
এরপর বনদপ্তরের কর্মীরা গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠের লগ উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া কাঠগুলো কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই পরিবহন করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। রাতেই আটক করা গাড়ি এবং কাঠের লগগুলো মেলাঘর বনদপ্তরের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
মঙ্গলবার সকালে বনদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে উদ্ধার হওয়া কাঠের আনুষ্ঠানিক মাপজোখ করা হয়। বনদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গাড়িটি থেকে প্রায় ৫০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া কাঠের বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বনদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ কাঠ পাচার চক্রের কাজ এবং এর সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
এই বিষয়ে মেলাঘর বনদপ্তরের এক আধিকারিক জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলেই এই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিযান চালিয়ে একটি বোলেরো গাড়ি এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে। কাঠ ও গাড়ির প্রকৃত মালিক কে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বনসম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ কাঠ পাচার রোধে বনদপ্তর কোনোভাবেই আপস করবে না। যারা বন ধ্বংস এবং অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী দিনেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কাঠ পাচারের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বনদপ্তর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বনদপ্তরের এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও সচেতন নাগরিকরা।
বনদপ্তরের এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বনসম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে, তেমনি অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তাও পৌঁছে গেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে পলাতক পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা যায় কিনা, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনের।
Leave a Comment