---Advertisement---

রাত ২টো বাজে, ঘুম উড়েছে? মনোবিদের মতে এই ৫টি ভুল আপনিই করছেন!

By Suman Debnath

July 22, 2026 2:01 AM

রাত ২টো বাজে, ঘুম উড়েছে? মনোবিদের মতে এই ৫টি ভুল আপনিই করছেন!

---Advertisement---


ঘড়ির কাঁটা রাত ২টো ছুঁইছুঁই। চারিদিক নিস্তব্ধ। অথচ আপনি বিছানায় এপাশ-ওপাশ করছেন, ঘুম কিছুতেই আসছে না? মাথার মধ্যে ঘুরছে অফিসের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন, নাকি শুধুই অকারণ দুশ্চিন্তা? মনোবিদরা বলছেন, অনিদ্রা (Insomnia) কোনো রোগ নয়, বরং কিছু বদভ্যাসের ফল। জেনে নিন, ঘুম না আসার পেছনে কোন ৫টি ভুল সবচেয়ে বেশি দায়ী— আর কীভাবেই বা সমাধান করবেন।

১. ঘুমানোর আগে ফোন স্ক্রল করা
এটাই সবচেয়ে বড় শত্রু। বিছানায় শুয়ে ফেসবুক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামের রিলস দেখা— এই অভ্যাসটাই ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয় ঘুমের চক্র। মোবাইলের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) মস্তিষ্কের মেলাটোনিন (Melatonin) হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়। এই হরমোনই আমাদের ঘুমাতে সাহায্য করে। মনোবিদদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখুন।

২. রাতে চা-কফি বা ক্যাফেইন পান করা
বিকেল বা সন্ধ্যার পর চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু ক্যাফেইন (Caffeine) শরীর থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে যেতে প্রায় ৬-৮ ঘণ্টা সময় নেয়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যদি আপনি কফি খান, তাহলে আপনার স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) উত্তেজিত থাকে এবং ঘুম আসতে চায় না। মনোবিদদের মতে, সন্ধ্যা ৬টার পর ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো।

৩. বিছানায় শুয়ে দুশ্চিন্তা করা
অনেকেই বিছানায় শুয়ে সারাদিনের ঘটনা নিয়ে ভাবতে থাকেন— “কালকের মিটিংটা কীভাবে সামলাবো?” বা “টাকাটা কীভাবে জোগাড় হবে?” মনোবিদরা একে ‘রুমিনেশন’ (Rumination) বলেন। এতে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে এবং ঘুম আসতে পারে না। সমাধান? ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটা খাতায় কালকের কাজগুলো লিখে ফেলুন। মনটা হালকা হবে।

আরও পড়ুন:  রাত জাগা মানুষরা কি অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান? গবেষণা কী বলছে জানেন?

৪. রাতে ভারী খাবার খাওয়া
রাতের খাবার খুব বেশি তেলমশলাযুক্ত বা ভারী হলে হজম হতে সময় লাগে। এতে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। মনোবিদ ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত। হালকা খাবার খেলে ঘুম ভালো হয়।

৫. অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি
শুক্রবার রাতে দেরি করে ঘুমানো, শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো— এই অনিয়ম আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ি (Circadian Rhythm) নষ্ট করে দেয়। এতে সোমবার থেকে আবার ঘুমের সমস্যা শুরু হয়। মনোবিদরা বলেন, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন— ছুটির দিনেও নয়।

শেষ কথা
ঘুম ওষুধ দিয়ে নয়, অভ্যাস বদলে আনতে হবে। এই ৫টি ভুল এড়িয়ে চলতে পারলে দেখবেন, রাত ২টো নয়, রাত ১০টাতেই চোখ জুড়িয়ে আসছে। ভালো ঘুমই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

❓ প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন: রাতে ঘুম না আসার প্রধান কারণ কী?
উত্তর: মনোবিদদের মতে, ঘুমানোর আগে ফোনের নীল আলো দেখা, ক্যাফেইন পান করা এবং বিছানায় শুয়ে দুশ্চিন্তা করা— এই তিনটিই অনিদ্রার সবচেয়ে বড় কারণ। বিশেষ করে মোবাইলের স্ক্রিন মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা দেয়।

আরও পড়ুন:  ফোন নিষ্ক্রিয়, তবুও চার্জ কম!

প্রশ্ন: রাতে ঘুম না এলে সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন?
উত্তর: জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ুন। একটা বই পড়ুন, হালকা গান শুনুন বা এক গ্লাস গরম দুধ পান করুন। ঘুম আসলে আবার বিছানায় যান। এটাকে স্লিপ সাইকোলজিতে ‘স্টিমুলাস কন্ট্রোল’ বলা হয়।

প্রশ্ন: ঘুম আসার জন্য কোন খাবার ভালো?
উত্তর: কলা, গরম দুধ, ক্যামোমাইল চা, ওটস এবং বাদাম— এই খাবারগুলোতে প্রাকৃতিক ভাবে ট্রিপটোফ্যান (Tryptophan) ও ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium) থাকে, যা ঘুম আসতে সাহায্য করে।

প্রশ্ন: ঘুমের ওষুধ খাওয়া কি ঠিক?
উত্তর: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ একেবারেই খাবেন না। এতে সাময়িক সমাধান মিললেও দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরতা তৈরি হয় এবং শরীরের ক্ষতি হয়। বরং অভ্যাস বদলান, সেটাই স্থায়ী সমাধান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে



Google News







এবং Google Discover



Google Discover



-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment