---Advertisement---

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথে শ্রীভূমি, ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

By Suman Debnath

July 21, 2026 11:50 PM

মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার শপথে শ্রীভূমি, ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

---Advertisement---


মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই :
মাতৃভাষার মর্যাদা, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে করিমগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো মাতৃভাষা শহীদ দিবস। ১৯৮৬ সালের ২১ জুলাই ভাষা আন্দোলনে শহীদ জগন্ময় দেব ও দিব্যেন্দু দাসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
‘করিমগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন বিরোধী ছাত্র-যুব সংগ্রাম কমিটি’-র উদ্যোগে সকালে শম্ভু সাগর পার্কের শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন সুদীপ্তা দে চৌধুরী, প্রজ্জ্বল দেব, সঞ্চিতা শুক্ল, সুজিত কুমার পাল, বাবলী দাস, মুক্তার আহমেদ, রশিদ আহমদ, দীপক রায়সহ বহু ভাষাপ্রেমী মানুষ।

আরও পড়ুন:  ভুয়ো আধারে ভারতে বসবাস, ধর্মনগরে বাংলাদেশি মহিলা ও স্থানীয় যুবক গ্রেপ্তার

সন্ধ্যায় ঐতিহাসিক পিডব্লিউডি কর্নারের শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে পথসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক অরুণাংশু ভট্টাচার্য। আলোচনা সভায় বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই। প্রজ্জ্বল দেব বলেন, ১৯৬১, ১৯৭২ ও ১৯৮৬ সালের ভাষা আন্দোলন বরাক উপত্যকার আত্মমর্যাদার সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর দাবি, ১৯৮৬ সালের আন্দোলনের ফলেই বিতর্কিত ‘সেবা সার্কুলার’ স্থগিত রাখতে সরকার বাধ্য হয়।

অরুণাংশু ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, বরাক উপত্যকার ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের ওপর ধারাবাহিকভাবে আঘাত আসছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার সংকুচিত করা, সরকারি নথি ও পাঠ্যপুস্তকে ভাষা আইনের পরিপন্থী পদক্ষেপ, উন্নয়নে বৈষম্য এবং করিমগঞ্জ ও বদরপুরের ঐতিহাসিক পরিচয় পরিবর্তনের উদ্যোগ উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন:  বদরপুরের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতায় নাগরিক অভিবর্তন, গঠিত হল প্রতিরোধ কমিটি

বক্তারা আরও বলেন, ১৯ মে ও ২১ জুলাই কেবল স্মৃতিচারণের দিন নয়, অন্যায়, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, বিভাজন ও উগ্র প্রাদেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে শপথ নেওয়ার দিন। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তাদের মতে, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে ভাষাগত অধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment