---Advertisement---

অবৈধ পার্কিংয়ে নাজেহাল তেলিয়ামুড়া, জাতীয় সড়কে নিত্যদিনের যানজটে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ!

By Suman Debnath

June 6, 2026 9:29 AM

অবৈধ পার্কিংয়ে নাজেহাল তেলিয়ামুড়া, জাতীয় সড়কে নিত্যদিনের যানজটে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

---Advertisement---

তেলিয়ামুড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা: তেলিয়ামুড়া শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে চলে যাওয়া আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিনই অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলিতে যানবাহনের চাপ এবং অপরিকল্পিত পার্কিংয়ের ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

শহরের ব্যবসায়ী, পথচারী ও যাত্রীদের অভিযোগ, সপ্তাহের প্রায় প্রতিটি দিনই জাতীয় সড়কের আশপাশ এলাকায় যানজটের সমস্যা দেখা যায়। রাস্তার দুই ধারে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহন আটকে থাকে। এর ফলে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে অনেক সময় মাত্র একজন এসপিও বা কনস্টেবলকে মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এত বড় এলাকা এবং বিপুল যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া একজন কর্মীর পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে যানজটের পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ট্রাফিক কর্মীদের মূলত যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা এবং জরিমানা আদায়ে বেশি ব্যস্ত দেখা যায়, অথচ যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত নজর দেওয়া হয় না।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে নড়েচড়ে বসলো দিল্লি!

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সপ্তাহের দুই হাটবার—সোমবার ও শুক্রবার। এই দুই দিনে তেলিয়ামুড়া ফল বাজার থেকে অম্পি চৌমুহনী পর্যন্ত জাতীয় সড়কের দুই পাশে অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠে টমটম ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। শত শত টমটম ও অটোরিকশা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের একটি বড় অংশ কার্যত দখল হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় সড়কে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সচেতন মহলের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু সাধারণ মানুষের ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণও হতে পারে। বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স, দমকল কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার গাড়ি যানজটে আটকে পড়লে জীবন ও সম্পদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্যও উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে তেলিয়ামুড়া ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ নিবাস চন্দ্র দাস জানান, সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “তেলিয়ামুড়ায় বিপুল সংখ্যক টমটম ও অটোরিকশা চলাচল করলেও তাদের জন্য কোনো স্থায়ী স্ট্যান্ড বা পার্কিং জোন নেই। ফলে চালকরা অনেক ক্ষেত্রেই রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।”

আরও পড়ুন:  ত্রিপুরার কুইন আনারসে বিশ্ববাজারের আস্থা, দিল্লির বায়ার-সেলার মিটে ১১ কোটি টাকার ১৮টি এলওআই

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি চালক ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবৈধ পার্কিং পরিহার এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চললে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তবে শহরবাসীর প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান কবে হবে? জাতীয় সড়কের উপর প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হওয়া যানজট থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন তেলিয়ামুড়ার সাধারণ মানুষ। শহরের ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় দ্রুত স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট অটো-টমটম স্ট্যান্ড এবং পর্যাপ্ত ট্রাফিক কর্মী মোতায়েনের দাবি জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment