নিজস্ব সংবাদদাতা, বিলোনীয়া: দক্ষিণ জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদ ও বিলোনীয়া পুরপরিষদের সহযোগিতায় বিলোনীয়ার শচীন দেববর্মন অডিটোরিয়ামে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ভীষ্মদেব শিশু নাটক প্রতিযোগিতা। জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নাট্যচর্চার প্রসার ঘটানো এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
চারাগাছে জলসিঞ্চনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিলোনীয়া পুরপরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল চন্দ্র গোপ, বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব অমর মিত্র, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহ-অধিকর্তা মনোজ দেববর্মা, বিলোনীয়া পুরপরিষদের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি অনুপম চক্রবর্তী, নাট্য প্রতিযোগিতার বিচারক পীযূষ রায় ও পার্থ মজুমদার-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতিথিরা বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নাট্যচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে শিশু ও কিশোরদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। এর ফলে সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে অনেকেই দূরে সরে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নাটক শিশুদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, সামাজিক মূল্যবোধ গঠন এবং সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, নাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ সচেতনতা গড়ে তোলারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। নাট্যচর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দলগত কাজের মনোভাব, শৃঙ্খলাবোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। তাই লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে নাট্যচর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তারা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ জেলার প্রবীণ ও নবীন নাট্যব্যক্তিত্বদের সম্মাননা প্রদান। নাট্যাঙ্গনে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে সম্মানিত করা হয়। আয়োজকদের এই উদ্যোগকে উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা সাধুবাদ জানান।
এবারের প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ জেলার মোট ১২টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। প্রতিযোগিতার প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর তিনটি বিদ্যালয় তাদের নাটক মঞ্চস্থ করে। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও মূল্যবোধভিত্তিক বিষয় নিয়ে পরিবেশিত নাটকগুলো দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি বিদ্যালয়গুলো শুক্রবার, ৫ জুন তাদের নাটক মঞ্চস্থ করবে। প্রতিটি নাটক বিচারকদের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। অভিনয় দক্ষতা, মঞ্চ উপস্থাপনা, সংলাপ, পরিচালনা, বিষয়বস্তুর উপস্থাপনাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সেরা দলগুলো নির্বাচন করা হবে।
বিচারকদের রায়ে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলো পরবর্তীতে রাজ্যস্তরীয় ভীষ্মদেব শিশু নাটক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করবে। ফলে জেলার শিক্ষার্থীদের সামনে বৃহত্তর মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
আয়োজকদের মতে, শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং নাট্য প্রতিভা বিকাশের জন্য এই ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
আগামী ৫ জুন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দু’দিনব্যাপী দক্ষিণ জেলা ভীষ্মদেব শিশু নাটক প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
Leave a Comment