পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক তদন্তে একের পর এক পুরনো নথি খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। এবার বাংলাদেশি নাগরিকদের নামে ভুয়ো জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, ভোটার পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য সরকারি নথি তৈরির অভিযোগকে সামনে এনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় তদন্তে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা অতীতের নথি ইস্যু এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বণ্টন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। তবে এই অভিযোগগুলির অনেকগুলিই এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
সরকারি সূত্রের দাবি, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় বিশেষ যাচাই প্রক্রিয়া চলাকালীন (SIR) বেশ কয়েকটি ঘটনায় এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিক হয়েও ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, কোথাও ভোটার কার্ড, কোথাও জন্ম শংসাপত্র, আবার কোথাও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নথি যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, অতীতে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন সরকারি নথি তৈরির প্রস্তাব তাঁদের দেওয়া হয়েছিল। তবে এই দাবিগুলির সত্যতা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) কাকদ্বীপ (Kakdwip) এলাকার কিছু অংশ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের বসবাস ছিল। যদিও ওই দাবির সরকারি পরিসংখ্যান বা চূড়ান্ত যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
একইভাবে উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) কিছু এলাকা থেকেও এমন অভিযোগ উঠে এসেছে যে, কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা এবং রেশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছিলেন। সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে কয়েকজন নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে পৃথকভাবে এই বক্তব্যগুলির সত্যতা সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হওয়া বাকি।
রাজ্য সরকারের দাবি, বর্তমানে বেআইনিভাবে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু, পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় নথি জালিয়াতির সম্ভাব্য চক্র—সবকিছুই সমন্বিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তার উৎস চিহ্নিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক শিবির এই ইস্যুতে আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও সামনে আসেনি। ফলে গোটা বিষয়টি এখন তদন্ত ও প্রশাসনিক যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে সরকারি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, তার দিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের।
Leave a Comment