আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে ময়দানে নামল আইপিএফটি। ২০১৮ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে রাজ্য সরকার পরিচালনায় থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংগঠন দুর্বল হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত নেতা এনসি দেববর্মার মৃত্যুর পর নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এডিসি এলাকায় সংগঠনকে আগের মতো শক্তভাবে ধরে রাখতে পারেনি দল।
গত টিটিএএডিসি নির্বাচনে একটি আসনও জিততে পারেনি আইপিএফটি। ফলে বিভিন্ন নির্বাচনে দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কর্মসূচি ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলের নেতৃত্ব।
এডিসি দিবস উপলক্ষে রবিবার আইপিএফটির উদ্যোগে আগরতলা শহরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে একটি ডেপুটেশন প্রদান করে পৃথক রাজ্যের দাবি জানান দলের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক তথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। তিনি জানান, ২০০৯ সাল থেকে স্বশাসিত জেলা পরিষদ এলাকাকে পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে আইপিএফটি। প্রতিবছর দিল্লি ও রাজ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দাবি তুলে ধরা হয়। এবার আগরতলা শহরে দাবি দিবস পালন করে রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়েছে।
শুক্লাচরণ নোয়াতিয়ার দাবি, জনজাতিদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থেই পৃথক রাজ্যের দাবি জানিয়ে আসছে আইপিএফটি।
এদিনের মিছিলে দলের সভাপতি প্রেম কুমার রিয়াং-সহ অন্যান্য নেতৃত্বও উপস্থিত ছিলেন। তবে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শক্তি প্রদর্শন কতটা রাজনৈতিকভাবে কার্যকর হয় এবং সংগঠনকে কতটা চাঙ্গা করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুধু মিছিল-মিটিং নয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়ার পাশে আরও সক্রিয়ভাবে দাঁড়াতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত ভোটের রাজনীতিতে জনসমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি।

Leave a Comment