ভারতীয় কুস্তি মহলে বহুল আলোচিত যৌন হেনস্তা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত (Rouse Avenue Court)। প্রাক্তন ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন (Wrestling Federation of India, WFI) সভাপতি ও বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ (Brij Bhushan Sharan Singh)-কে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অপর অভিযুক্ত, প্রাক্তন WFI সহ-সচিব বিনোদ তোমর (Vinod Tomar)-কেও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও দুই পক্ষের যুক্তি খতিয়ে দেখার পর সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।
অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার (Ashwani Panwar)-এর আদালত এই নির্দেশ দেয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপর্বে সাক্ষীদের বয়ান, নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি বিশদে পর্যালোচনা করা হয়েছে। পুরো বিচারপ্রক্রিয়াই ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আওতায় রাখা হয়েছিল।
এই মামলায় অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিরদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী রেবেকা জন (Rebecca John)। অন্যদিকে, ব্রিজভূষণের পক্ষে আদালতে লড়েন আইনজীবী রাজীব মোহন (Rajiv Mohan)।
২০২৪ সালের মে মাসে ব্রিজভূষণ শরণ সিংহের বিরুদ্ধে একাধিক মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্তার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি এবং ৫০৬(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে, বিনোদ তোমরের বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বিচার চলাকালীন দু’জনেই জামিনে মুক্ত ছিলেন।
এই অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অলিম্পিয়ান বিনেশ ফোগাট (Vinesh Phogat), সাক্ষী মালিক (Sakshi Malik) এবং বজরং পুনিয়া (Bajrang Punia)-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক কুস্তিগির প্রকাশ্যে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে সরব হন। অভিযোগ ছিল, ছয়জন মহিলা কুস্তিগির যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন নাবালিকাও ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ দীর্ঘ আন্দোলনে বসেছিলেন কুস্তিগিরেরা। সেই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলেছিল। প্রবল চাপের মুখে WFI সভাপতির পদ ছাড়েন ব্রিজভূষণ। পরে সঞ্জয় সিংহ (Sanjay Singh) সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হন। যদিও আন্দোলনকারী কুস্তিগিরদের অভিযোগ ছিল, পদে না থাকলেও সংগঠনের উপর ব্রিজভূষণের প্রভাব বজায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মামলার তদন্ত চলাকালীন নাবালিকা অভিযোগকারিণীকে ঘিরে দায়ের হওয়া পকসো (POCSO) মামলায় আগেই স্বস্তি পান ব্রিজভূষণ। দিল্লি পুলিশ আদালতে সেই মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। পরে অভিযোগকারিণী এবং তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও পুলিশের রিপোর্টে কোনও আপত্তি না থাকায় আদালত পকসো মামলাটি খারিজ করে দেয়।
সোমবারের রায়ে যৌন হেনস্তা সংক্রান্ত বাকি অভিযোগ থেকেও অব্যাহতি পেলেন ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ এবং বিনোদ তোমর। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী পক্ষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে বহুচর্চিত এই মামলার আইনি লড়াই এখানেই শেষ হবে, নাকি নতুন মোড় নেবে, এখন সেদিকেই নজর।
Leave a Comment