সংসদে কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা—ইথানলবিহীন পেট্রোলে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই। E20-র নিরাপত্তা, মাইলেজ ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত জানাল সরকার।
দেশজুড়ে E20 পেট্রোল (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হল। সংসদে জানানো হয়েছে, ইথানলবিহীন বা ‘বিশুদ্ধ’ পেট্রোলে ফেরার কোনও পরিকল্পনা নেই। একইসঙ্গে সরকার জানিয়েছে, আপাতত E20-র বেশি ইথানল মিশ্রণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। ফলে ভবিষ্যতেও দেশের পেট্রোলচালিত যানবাহনের জন্য E20-ই হবে মূল জ্বালানি। এই ঘোষণার পর বহু গাড়ি মালিকের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তাঁদের গাড়ির উপর এর কী প্রভাব পড়বে?
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী (Suresh Gopi) সংসদে লিখিত জবাবে জানান, E20 পেট্রোল নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক ইঞ্জিন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই ইথানলবিহীন পেট্রোলে ফেরার কোনও প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় নেই। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে ২০ শতাংশের বেশি ইথানল মেশানোরও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের আগেই পূরণ হল লক্ষ্য
সরকারের দাবি, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের পাঁচ বছর আগেই পূরণ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে গড় ইথানল মিশ্রণ ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১৪.৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ সালে এই হার পৌঁছায় ১৯.২ শতাংশে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত) তা ২০ শতাংশে পৌঁছে যায়।
ইঞ্জিনের ক্ষতি ও মাইলেজ নিয়ে কী বলল কেন্দ্র?
E20 পেট্রোল ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ইঞ্জিনের ক্ষতি এবং মাইলেজ কমে যাওয়া। এ বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, বিভিন্ন পরীক্ষায় E20 ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের কোনও অস্বাভাবিক ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি। ২০২৫-২৬ সালে প্রায় ২.৮৪ কোটি যানবাহনের সার্ভিসিংয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করেও ইথানলের কারণে ইঞ্জিন বিকলের অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে সংসদে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ২০ কোটিরও বেশি দু’চাকা এবং ৩ কোটির বেশি পেট্রোলচালিত চারচাকা E15+ এবং E20 জ্বালানি ব্যবহার করছে। তবে সরকার স্বীকার করেছে, E10-উপযোগী পুরনো গাড়িতে মাইলেজ ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। যদিও E20-র উচ্চ অকটেন মানের কারণে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা উন্নত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অর্থনীতি ও কৃষিতে কী লাভ?
কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারের ফলে দেশে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি ৩১৬ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি কমেছে এবং ৯৫২ লক্ষ মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ইথানল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের ১.৬৬ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা প্রদান করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, E20 জ্বালানি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তেল বিপণন সংস্থাগুলির নির্দিষ্ট অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা অভিযোগ জানাতে পারবেন।
Leave a Comment