---Advertisement---

জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের, চাপে পড়বে ভারত?

By Suman Debnath

July 22, 2026 5:30 PM

জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের, চাপে পড়বে ভারত?

---Advertisement---


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশ থেকে আমদানি করা জেনেরিক ওষুধের উপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো। তাঁর এই ঘোষণার ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ ভারতের ওষুধ শিল্পের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ট্রাম্প তাঁর সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর হবে। প্রথম ২ বছর আমদানি করা জেনেরিক ওষুধে কোনও শুল্ক থাকবে না। এরপর ২০২৮-এর আগস্ট থেকে এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক এবং ২০২৯ সালের আগস্ট থেকে তা বেড়ে ২০০ শতাংশ হবে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে যে সমস্ত সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলবে না তাদের উপরই এই উচ্চ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে পেটেন্টপ্রাপ্ত ও ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন:  হাসপাতাল থেকেই চিঠি সোনামের, দিলেন ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ সফলের ডাক

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, এই সময়ের মধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা গড়ে উৎপাদন শুরু করতে পারবে। তাঁর কথায়, ইতিমধ্যেই দেশে নতুন ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ জোরকদমে চলছে। এই ঘোষণা কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের উপর।

ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনকারী দেশ। আবার ভারতীয় ওষুধ শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারও যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ৯.৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছে। যা দেশের মোট ওষুধ রপ্তানির প্রায় ৩৮ শতাংশ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, সংক্রামক রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ জেনেরিক ওষুধ ভারত থেকেই আমেরিকায় যায়।

ট্রাম্পের ঘোষণার পরই ভারতের শেয়ারবাজারে ওষুধ সংস্থাগুলির শেয়ারে চাপ পড়তে শুরু করেছে। সান ফার্মা, সিপলা, ড.রেড্ডিস, লুপিন ও অরবিন্দো ফার্মার শেয়ারদর কমে যায়। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নীতিটি কার্যকর হতে এখনও অনেক সময় রয়েছে। অনেক ভারতীয় সংস্থার যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদন কেন্দ্র থাকায় তাৎক্ষণিক ধাক্কার আশঙ্কা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরাতে গেলে বিপুল বিনিয়োগ, নতুন কারখানা, দক্ষ কর্মী, ইউএস এফডিএ-র অনুমোদন এবং নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলির পক্ষে এই খরচ বহন করা সহজ হবে না।

আরও পড়ুন:  প্রাক্তন লিভ-ইন সঙ্গীকে কুপিয়ে খুন, হবু স্বামীকে ফোনে বলল ‘শেষ করে দিয়েছি’, তারপর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

অন্যদিকে, মার্কিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ-র তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া প্রেসক্রিপশনের ৯০ শতাংশেরও বেশি জেনেরিক ওষুধ। ফলে উচ্চ শুল্ক কার্যকর হলে অতিরিক্ত খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত রোগীদের উপর পড়তে পারে। এর পাশাপাশি, কিছু সংস্থা রপ্তানি কমিয়ে দিলে ওষুধের সরবরাহেও ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

---Advertisement---

Suman Debnath

Journalist

No comments to show.

Leave a Comment