NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের দাবি সমর্থন করলেও আন্দোলনে ধর্মীয় মন্তব্য ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিলেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে এবার মুখ খুললেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বাংলা দলের কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা (Laxmiratan Shukla)। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানালেও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কিছু বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, পরীক্ষার স্বচ্ছতার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কোনওভাবেই ধর্মীয় বিভাজন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওবার্তায় লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, NEET প্রশ্নফাঁস একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, পরিশ্রমী ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার অধিকার কারও নেই এবং এই দাবিতে আন্দোলন ন্যায্য।
তবে আন্দোলনের একটি মঞ্চে কমেডিয়ান কুণাল কামরার (Kunal Kamra) একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আপত্তি জানান। লক্ষ্মীর অভিযোগ, ওই বক্তব্যে ভগবান রামকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে। তাঁর মতে, ছাত্রদের দাবি আদায়ের মঞ্চে এ ধরনের মন্তব্যের কোনও জায়গা নেই।
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদনও জানান। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ভারত বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের দেশ, তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার কোনও প্রচেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়।
ভিডিওটির ক্যাপশনে লক্ষ্মীরতন শুক্লা লেখেন, “আমরা ছাত্রদের সমর্থন করছি। কিন্তু আরশোলাদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ তাঁরা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এদিকে NEET-কে কেন্দ্র করে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-কে দিল্লি পুলিশ আটক করেছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একই ঘটনায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)-কেও আটক করে পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের সময় আটক হওয়া আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে পরবর্তীতে মুক্তি দেয় দিল্লি পুলিশ।
এই পরিস্থিতিতে লক্ষ্মীরতন শুক্লার বার্তা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। একদিকে তিনি ছাত্রদের ন্যায়বিচারের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক ইস্যু জড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে স্পষ্ট সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
Leave a Comment