টানা বিক্ষোভ ও আরএসএস-এর অসন্তোষের চাপে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তরুণদের আশ্বাস দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে মুখে কুলুপ।
নয়াদিল্লি: টানা বিক্ষোভ, আরএসএস-এর অসন্তোষ আর সংসদে বিরোধীদের চাপ— সবকিছুর মাঝে অবশেষে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত (Fast-Track Court) গঠনের কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার সকালে এক্স হ্যান্ডেলে (X Handle) এক পোস্টে তিনি এই ঘোষণা করেন। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফার দাবি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী। যন্তর মন্তরে (Jantar Mantar) ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) লাগাতার আন্দোলন ও সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশনের মধ্যেই এই বার্তা এল।
মোদী লেখেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পাশাপাশি তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।” পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
Nothing is more important than the welfare and future of our youth!
We have decided to set up fast-track courts to ensure swift and stringent punishment for those involved in paper leaks. Have directed the concerned authorities and officials to take all necessary steps in this…
— Narendra Modi (@narendramodi) July 23, 2026
উল্লেখ্য, মোদীর এই ঘোষণার ঠিক আগেই ছাত্রবিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) ভূমিকার সমালোচনা করেছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। সঙ্ঘের মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোর যে পদক্ষেপ সরকার করছে, তা কয়েক দিন আগে করলে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হত। একইসঙ্গে পরীক্ষা-পদ্ধতি পাল্টে ফেলা ছাড়াও জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র খোলনলচে বদলানোর সওয়ালও করেছে আরএসএস।
এদিকে বুধবার রাতে যন্তর মন্তরে ফের সংঘর্ষ বাধে সিজেপি ও পুলিশের মধ্যে। টলস্টয় মার্গের কাছে পুলিশকর্মীদের দিকে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মোদীর তরফে এল ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বার্তা। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ নীরব প্রধানমন্ত্রী। আন্দোলনকারীরা এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট হন কি না, সেটাই এখন দেখার।
Leave a Comment