যন্তর মন্তরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি। রাতভর সংঘর্ষের পর ১৬ মেট্রো স্টেশন বন্ধ। বিজেপির গুন্ডা ঢোকানোর অভিযোগ তুললেন সিজেপি প্রধান। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা এলেও ইস্তফা নিয়ে অনড় আন্দোলনকারীরা।
নয়াদিল্লি: লাগাতার আন্দোলন, পুলিশি ব্যারিকেড, মেট্রো বন্ধ, আর রাতভর সংঘর্ষ— যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) এখন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বেশ কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janata Party) নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার পড়ুয়া ও যুবসমাজ। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লির (Delhi) ১৬টি মেট্রো স্টেশন (Metro Station) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে রাজধানী জুড়ে।
এক নজরে আজকের পরিস্থিতি:
রাতভর যা ঘটেছে:
বুধবার সন্ধ্যার পরেই যন্তর মন্তরের ধর্নাস্থলে ভিড় বাড়তে শুরু করে। নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেট (India Gate) এলাকাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। পুলিশের দাবি, টলস্টয় মার্গের (Tolstoy Marg) কাছে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। এই ঘটনায় অন্তত ৫ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল (Tear Gas Shell) ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ (Lathi Charge) করে। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও (Internet Service) বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ, কয়েকজন ‘সমাজবিরোধী’ নিরাপত্তাকর্মীদের লাঠি কেড়ে নিয়ে তাঁদের উপরেই হামলা চালান। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে থমথমে ভাব কাটেনি।
সিজেপি-র দাবি ও অভিযোগ:
বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke) বলেন, “আজ আমাদের আন্দোলনের ৩৪তম দিন। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা না দিলে আমরা প্রত্যাহার করব না।” পাশাপাশি সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) অনশন প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আপনার জীবনের ঝুঁকি চাই না। আপনার বেঁচে থাকা দেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
অভিজিৎ আরও অভিযোগ করেন, “বাইরে থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি (BJP)। আমরা এক মাস ধরে শান্তিতে বসে রয়েছি। এখন বিজেপি গুন্ডা ঢোকাচ্ছে। এরাই পাথর ছুড়ছে। পুলিশ গাড়িতে করে পাথর আনছে। বিজেপির লোকেরা পাথর ছুড়ে সিজেপি-র নামে দোষ চাপাচ্ছে।” তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সরকারের তরফে যা বলা হয়েছে:
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট (Fast-Track Court) গঠনের কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (J.P. Nadda) জানিয়েছেন, “সংসদে আলোচনার জন্য সরকার রাজি। কিন্তু এ নিয়ে রাজনীতি করলে মেনে নেওয়া হবে না।”
শেষ কথা:
টানা ৩৪ দিনের এই আন্দোলনে এখনও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের ঘোষণা এলেও মূল দাবি ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে অনড় আন্দোলনকারীরা। দিল্লির রাজপথে এখন প্রশ্ন একটাই— এই টানাপোড়েনের শেষ কোথায়?
Leave a Comment