বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তার মধ্যেই সমর্থকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন গোলরক্ষক Emiliano Martínez। একদিকে মার্টিনেজের আবেগঘন বার্তা, অন্যদিকে Leandro Paredes-কে ঘিরে শাস্তির আশঙ্কা এবং Lionel Messi-র ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন মার্টিনেজ। ম্যাচে তিনি রেকর্ড ১১টি সেভ করে দলকে বড় ব্যবধানে হার এড়াতে সাহায্য করেন বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের মত। তবুও শেষ পর্যন্ত ট্রফি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি আলবিসেলেস্তেদের।
ফাইনালের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তায় ৩৩ বছরের এই গোলরক্ষক লেখেন, তিনি আবারও বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার হয়ে আর খেলবেন কি না, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন। দেশের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় হতাশা স্পষ্ট তাঁর বক্তব্যে।
মার্টিনেজের এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আর্জেন্টিনা দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ৩৯ বছর বয়সী মেসিও এখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ফাইনাল শেষে আচরণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন পারেদেস। অভিযোগ, ম্যাচ শেষে স্পেনের ফুটবলার Eric García এবং Gavi-র সঙ্গে তাঁর সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার জেরে তিনি লাল কার্ডও দেখেন। এরপর FIFA আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, দোষ প্রমাণিত হলে তিন ম্যাচ বা তারও বেশি সময়ের জন্য নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। Zlatan Ibrahimović পারেদেসের আচরণের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, মাঠে তিনি থাকলে এমন আচরণের কড়া জবাব দিতেন। তাঁর মতে, একজন পেশাদার ফুটবলারের কাছ থেকে এমন ব্যবহার মোটেই প্রত্যাশিত নয়।
বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে পারেদেসের পরিবারের মন্তব্য। তাঁর বোন বারবারা সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কেরও জন্ম হয়েছে। সেই মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই আর্জেন্টিনা ফুটবল এখন একাধিক বিতর্ক, শাস্তির আশঙ্কা এবং তারকা ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। আগামী দিনে মার্টিনেজ ও মেসি কী সিদ্ধান্ত নেন এবং ফিফার তদন্তে কী ফল আসে, সেদিকেই এখন নজর গোটা ফুটবল বিশ্বের।
Leave a Comment